ফরহাদ রহমান স্টাফ রিপোর্টার : কক্সবাজারের টেকনাফের শালবাগান, লেদা ও চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক অভিযানে চারজনকে আটক করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এসব ঘটনা ঘটে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজনকে মাদক সেবন, একজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং অন্যজনকে সরকারি আদেশ অমান্যের দায়ে দণ্ড দেওয়া হয়।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সূত্রে জানা গেছে, শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক দুটি ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়ি ও তাঁর মাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে নূর ইসলাম (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আহত দুজনকে ক্যাম্প-২৬-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ক্যাম্প-২৪-এর সিআইসি কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
একই দিন সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে শালবাগান ক্যাম্পের এ/১ ব্লকে মাদক সেবনের অভিযোগে সৈয়দ হোসেন (২৬) নামের আরেকজনকে আটক করে এপিবিএন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪২(১) ধারায় ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
অন্যদিকে, লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় জাবের উল্লাহ (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এপিবিএন সূত্র জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রেহেনা (১৯) নামের এক নারী তাঁর সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে সিআইসি কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁর সাবেক স্বামী তাঁদের আগের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন।
পরে অভিযোগটি সিআইসির লিগ্যাল অফিসে পাঠানো হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জাবের উল্লাহ লিগ্যাল কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে লেদা এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে তাঁকে ক্যাম্প-২৪-এর সিআইসি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে সরকারি আদেশ অমান্যের দায়ে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় তাঁকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাঁকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ ছাড়া চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক সেবনের অভিযোগে খলিল আহমদ (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার বেলা ২টা ৫০ মিনিটের দিকে ক্যাম্প-২১-এর সি/০২ ব্লকের একটি বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে এপিবিএন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪২(২) ধারায় তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকেও টেকনাফ মডেল থানায় পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শালবাগান ও লেদা ক্যাম্পের ঘটনায় ক্যাম্প-২৪-এর সিআইসি খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। চাকমারকুল ক্যাম্পের ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ক্যাম্প সিআইসি মো. রনি আলম নূর।
এপিবিএন জানায়, পৃথক ঘটনাগুলোতে আটক চারজনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পগুলোর সাধারণ ডায়েরিতে ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
https://slotbet.online/