তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ঝুরঝুরি গ্রামে একটি জামে মসজিদের যাতায়াতের পথে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদে প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত ইটের রাস্তার ওপর বেড়া দেওয়ায় মুসল্লিদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই কারণে মসজিদের নির্মাণকাজও বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঝুরঝুরি গ্রামের জামে মসজিদটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসল্লিরা মসজিদটি ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি স্থানীয়দের অর্থায়নে প্রায় ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদটির নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এরই মধ্যে আরসিসি ঢালাইসহ একতলার ছাদ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মসজিদে যাতায়াতের জন্য প্রধান সড়ক থেকে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১৫ ফুট প্রশস্ত একটি ইটের রাস্তা রয়েছে। সম্প্রতি ওই রাস্তার অংশে বেড়া নির্মাণ করা হলে মসজিদের প্রবেশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে মুসল্লিদের পাশাপাশি নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদেরও মসজিদে প্রবেশে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোছাঃ হাওয়া বেগমের মালিকানাধীন জমি মসজিদের কাজে ব্যবহারের বিষয়ে পূর্বে মৌখিক সম্মতি ছিল। তবে বর্তমানে তাঁর ছেলে মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ও মোঃ আব্দুস সামাদ ওই স্থানে বেড়া নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এখনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে মসজিদে যাতায়াতের পথ বন্ধ থাকায় মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিষয়টির সমাধান না হলে স্থানীয়ভাবে বিরোধ আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে এবং মসজিদের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনে ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে মসজিদের চলাচলের পথের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির মাধ্যমে স্থানীয় মুসল্লিদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনটির অনুলিপি তাড়াশ সহকারী কমিশনার (ভূমি), তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং তাড়াশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে আবেদনকারীরা জানিয়েছেন।
https://slotbet.online/