ফরহাদ রহমান স্টাফ রিপোর্টার:কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণের পাঁচ দিন পর মো. লোকমান মিয়া (২৫) নামে এক সিএনজিচালককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) শালবাগান ক্যাম্পের পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর এ/৯ ও এ/১০ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ের কাঁটাতারের পাশ থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া লোকমান মিয়া চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ডাকঘরের বড়দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আমির হোসেন এবং মায়ের নাম আচিয়া খাতুন।
১৬ এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং বাজার থেকে তিন যাত্রী নিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় রওনা দেন লোকমান। পথে মৌচনী বাজার হয়ে নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আওতাধীন একটি ইটভাটার সামনে পৌঁছালে তিনি যাত্রীদের নামিয়ে দেন। এরপর অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে টেনেহিঁচড়ে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে নয়াপাড়া ক্যাম্পের ইটভাটা ও আনসার ক্যাম্পের পেছনের পাহাড়ে আটকে রাখা হয়।
পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর শনিবার দুপুরে শালবাগান ক্যাম্প-২৬-এর এ/৯ ও এ/১০ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ের পাশে তাঁকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতি দেখে ক্যাম্পের এক বাসিন্দা পাহাড়ের পাশে একজন ব্যক্তির পড়ে থাকার তথ্য দেন। খবর পেয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মনজুরুল আবছারের নির্দেশনায় এসআই রুহুল আমিন ও এসআই আলম মিয়াসহ ১০ সদস্যের একটি অভিযানিক দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাহাড়ের কাঁটাতারসংলগ্ন এলাকা থেকে লোকমানকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর তাঁকে ক্যাম্পের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ক্যাম্পে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তাঁর বড় ভাই আবুল হাশেম সেখানে আসেন। এরপর লোকমানকে তাঁর বড় ভাইয়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় শালবাগান এপিবিএন ক্যাম্পের সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
https://slotbet.online/