মোঃ শহীদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক দ্রব্যসংক্রান্ত অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারদের মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলার চার আসামি এবং জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াছিনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত শাহজাহান রয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ধারাবাহিক এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেফতাররা হলেন—মো. জুয়েল (৩০), মো. ফারুক (২৯), মো. আইনুদ্দিন (৩৬), মো. ফেরদৌস (৫০) ও মো. শাহজাহান (৫৫)। তারা সীতাকুণ্ড উপজেলার আলীনগর ও সলিমপুর-জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল রাতভর আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে বিভিন্ন মামলায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার জুয়েল, ফারুক, আইনুদ্দিন ও ফেরদৌসের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড মডেল থানার মামলা নম্বর-০৫-এর অভিযোগ রয়েছে। মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৫(৩)/২৫(ঘ) ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৮৮৪-এর ৩/৪ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে গ্রেফতার শাহজাহানকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াছিনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ডসহ চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টির বেশি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব মামলার কয়েকটিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরকসহ অন্যান্য অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। তাদের সহযোগী এবং একই ধরনের অপরাধে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার বলেন, চট্টগ্রামের কোথাও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র কিংবা বিস্ফোরক দ্রব্যের অপব্যবহার বরদাশত করা হবে না। আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, অপরাধী যতই শক্তিশালী বা প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। জনগণের নিরাপত্তা, শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করাই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
https://slotbet.online/