আজ বহুদিন পরে
এই নীরব সন্ধ্যার প্রান্তে এসে
হঠাৎ মনে হলো—
মানুষের জীবনে কিছু কিছু অপেক্ষা আছে,
যার কোনো শেষ নেই;
কিছু কিছু পথ আছে,
যার কোনো গন্তব্য নেই;
আর কিছু কিছু ভালোবাসা আছে,
যার কোনো প্রাপ্তি নেই—
তবুও তারা অনন্ত।
আমি সেই অনন্তেরই এক পথিক।
গোধূলির শেষ আলো
যখন নিভে আসে নদীর বুকে,
দিগন্তের ওপারে
যখন কোনো অচেনা পাখি
তার দিনের শেষ গানটি গেয়ে ওঠে,
তখন আমার অবুঝ মন
অকারণেই ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
সে যেন খুঁজে ফেরে
একটি হারিয়ে যাওয়া সময়,
একটি অব্যক্ত সম্বোধন,
একটি অসমাপ্ত স্পর্শের স্মৃতি।
জানো,
এই পৃথিবীতে মানুষ
মানুষকে যতটা না পায়,
তার চেয়ে বেশি হারায়।
তবু হারানোর মধ্যেই
সে সবচেয়ে গভীরভাবে বেঁচে থাকে।
আমি যাদের ভালোবেসেছি,
তাদের সকলেই আজ
আমার জীবনের ভেতরে
একেকটি ঋতু হয়ে আছে।
কেউ এসেছে বসন্তের মতো,
কেউ বর্ষার মতো,
কেউ বা শরতের শুভ্র মেঘ হয়ে।
কিন্তু সময়ের বাতাসে
সব ঋতুই একদিন চলে গেছে—
শুধু থেকে গেছে
তাদের স্পর্শের প্রতিধ্বনি।
রাত গভীর হলে
আমি মাঝে মাঝে আকাশ দেখি।
ভাবি,
এই অসংখ্য নক্ষত্রের ভিড়ে
কত আলো আজ আর নেই,
তবুও তাদের আলো
এখনও পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।
তবে কি মানুষের ভালোবাসাও
তেমনই?
মানুষ চলে যায়,
কিন্তু তার ভালোবাসা
অনেক দেরিতে নিঃশেষ হয়?
আমার অবুঝ মন
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে খুঁজতে
আজ ক্লান্ত।
তবুও সে থামে না।
সে আজও বিশ্বাস করে,
যে অনুভূতির মৃত্যু নেই;
মৃত্যু আছে কেবল
মানুষের উপস্থিতির।
কখনও কখনও মনে হয়,
আমরা কাউকে ভালোবাসি না;
আমরা ভালোবাসি
নিজের ভেতরে তার রেখে যাওয়া
একটি আলোকরেখাকে।
আর সেই আলোটুকু নিয়েই
সারাজীবন পথ চলি,
অন্ধকারের মধ্যেও।
আজ এই নিঃসঙ্গ রাত্রিতে,
জানালার পাশে বসে,
যখন দূরের আকাশে
একটি তারা নিঃশব্দে খসে পড়ে,
আমি কোনো প্রার্থনা করি না।
আমি শুধু আমার অবুঝ মনকে বলি—
শান্ত হও।
যারা চলে গেছে,
তাদের ফিরে আসার নয়;
যা হারিয়ে গেছে,
তার পুনর্জন্ম নেই;
তবুও ভালোবাসো,
তবুও স্মরণ করো,
তবুও অপেক্ষা করো—
কারণ এই অপেক্ষার মধ্যেই
মানুষ সবচেয়ে বেশি মানুষ হয়ে ওঠে।
আর যদি কোনো একদিন,
এই জীবনের সমস্ত হিসাব শেষে,
কোনো অনন্ত নীরবতার দেশে
তোমার সঙ্গে আবার দেখা হয়,
তবে আমি কোনো প্রশ্ন করব না,
কোনো অভিযোগও নয়।
আমি শুধু বলব—
দেখো,
আমার অবুঝ মনটি
এতদিন পরেও
তোমার জন্যই
ব্যাকুল হয়ে আছে।
https://slotbet.online/