মোঃ সজিব, বিএম কলেজ:
পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার স্বপ্ন যেখানে সবার, সেখানে চরম অবকাঠামোগত সংকট ও অসচেতনতার কারণে ম্লান হতে বসেছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের নান্দনিক পরিবেশ। ক্যাম্পাসের হাতেগোনা কয়েকটি পয়েন্টে ডাস্টবিন স্থাপন করা হলেও, সিংহভাগ এলাকায় নেই কোনো বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা। আর যেখানে ডাস্টবিন রয়েছে, সেখানেও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলার এক নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডাস্টবিন ব্যবহারের পরিবর্তে তার ঠিক নিচেই ও আশপাশে প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট, ব্যবহৃত থার্মোকল ও কাগজের প্লেটসহ নানাবিধ আবর্জনা ফেলে রাখছেন অনেকে। ফলে ডাস্টবিনগুলো ফাঁকা দাঁড়িয়ে থাকলেও তার চারপাশেই গড়ে উঠছে ময়লার স্তূপ।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশাল এই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অনুপাতে ডাস্টবিনের সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। তার চেয়েও বড় সংকট হলো, পুরো বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্রীয় ‘ডাম্পিং পয়েন্ট’ নেই। ফলে ডাস্টবিনের ময়লাগুলো সংগ্রহ করে কোথায় ফেলা হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের হাহাকার। ডাস্টবিন সংকটের পাশাপাশি তদারকির অভাবে সামান্য অসচেতনতা ও নাগরিক দায়বদ্ধতার ঘাটতিতে সৌন্দর্য হারাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই ক্যাম্পাস।
বিশেষ করে বর্ষার দিনে এই চিত্র আরও ভয়াবহ রূপ নেয়; উচ্ছিষ্ট ও প্লাস্টিক বর্জ্য বৃষ্টির পানিতে ভেসে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এসব যত্রতত্র ফেলে রাখা থার্মোকল, ওয়ান-টাইম কাপ ও প্লাস্টিকের পাত্রে বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হচ্ছে মশার মারাত্মক প্রজনন ক্ষেত্র। এর ফলে ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রব যেমন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মাঝে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, শুধু নামমাত্র দু-একটা ডাস্টবিন স্থাপন করলেই কলেজ প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও মশামুক্ত রাখতে সবার আগে প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং পয়েন্ট নির্ধারণ করা এবং পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা। এর পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও মশা নিধন কার্যক্রম (স্প্রে) জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে যারা সচেতনতার তোয়াক্কা না করে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলছেন, তাদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজনে তদারকি বাড়াতে হবে।
ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবার সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। প্রশাসন যদি দ্রুত ডাম্পিং পয়েন্ট ও পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করাসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, এবং সাধারণের মাঝে “ময়লা নির্দিষ্ট স্থানেই ফেলবো” এই সংস্কৃতি তৈরি হয়, তবেই ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের একটি স্থায়ী, সুস্থ ও দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস ধরে রাখা সম্ভব।
https://slotbet.online/