আনিছুর রহমান।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর আইন পেশাজীবীদের অন্যতম সংগঠন ‘বাঁশখালী আইনজীবী সমিতি’র ২০২৬–২০২৭ সেশনের নির্বাচনকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও আইনি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন এবং একতরফা সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে একাধিক সদস্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
এ ঘটনায় সমিতির সাবেক সভাপতি ও আইনজীবী মনিরুল আলম চৌধুরী, এ.আর.এম তকছিমুল গণি (ইমন) এবং অসীমা দেবীসহ তিনজন বিজ্ঞ সদস্য গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে বাঁশখালী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর—১৬১/২৬।
বাদীপক্ষের দায়েরকৃত এই মামলায় বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়েছে। মামলার আরজিতে নির্বাচন কমিশন ও এডহক কমিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে মূল ২জন মোকাবিলা বিবাদীসহ মোট ১৬ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার প্রধান বিবাদী হিসেবে নির্বাচন কমিশনের প্রধান এবং এডহক কমিটির মনোনীত দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে বিতর্কিত নির্বাচন পরিচালনা ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বাধার সৃষ্টি করেছেন। জানা যায় ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলেও পরবর্তীতে সমিতির কিছু সদস্য ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গঠনতন্ত্রের ১০ ধারা লঙ্ঘন করে একটি ‘এডহক কমিটি’ গঠন করেন। বাদীপক্ষের অভিযোগ, এ কমিটি আইনগতভাবে স্বীকৃত নয় এবং এটি সমিতির স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানে বাধা সৃষ্টি করে। একইসঙ্গে কোনো শুনানির সুযোগ না দিয়ে সভাপতি প্রার্থী এ.আর.এম তকছিমুল গণি (ইমন)-এর মনোনয়নপত্র বাতিলের চেষ্টা করা হয়, যা সমিতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দ্রুততার সঙ্গে একটি একতরফা নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হলেও সাধারণ সদস্যদের অনাগ্রহ ও অসহযোগিতার কারণে তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা না করে নির্বাচন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং সমিতির তহবিলের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
তারা আদালতের কাছে চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম বাতিল করে নতুনভাবে স্বচ্ছ তফসিল ঘোষণার আবেদন জানিয়েছেন।
বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় বাঁশখালীর আইনজীবী মহলে চরম উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সাধারণ সদস্যরা আশা করছেন, আদালতের হস্তক্ষেপে সমিতিতে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
https://slotbet.online/