আনিছুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক:-
চট্টগ্রাম (বাঁশখালী): চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছে বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের কৃতি শিক্ষার্থীরা। এই ওয়ার্ড থেকে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা পুরো বাঁশখালী উপজেলায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করেছেন। পাশাপাশি ওয়ার্ডের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ‘গোল্ডেন এ+’ (জিপিএ ৫.০০) অর্জন করায় তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার ঘোষণা অনুযায়ী ২৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রি., শুক্রবার বিকাল ৪টায় দক্ষিণ সাধনপুর কালীবাড়ি মোড়ে এক আনন্দঘন পরিবেশে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ডা. মোহাম্মদ এজাজের শিক্ষাবান্দব উদ্যোগে
সাধনপুর পল্লী উন্নয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাস্টার থোকন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ডাক্তার মোহাম্মদ এজাজের উপস্থাপনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে.এম. সালাহউদ্দীন কামাল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন আমাদের সাধনপুর ইউনিয়নের জন্য একটি গর্বের দিন। ৯নং ওয়ার্ডের শিক্ষার্থীরা এসএসসিতে পুরো বাঁশখালীতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এই মেধাবী মুখগুলোই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। ইউপি সদস্য ডা. মোহাম্মদ এজাজ যেভাবে নিজ উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানানোর আয়োজন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মেধা বিকাশে এ ধরনের উৎসাহমূলক কাজে সবসময় আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ অতিথি- বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম মাইনুদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য কোনো সাধারণ অর্জন নয়; এটি তাদের দীর্ঘ সাধনা, নিয়মিত অধ্যবসায় এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের যৌথ প্রচেষ্টার ফল। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের সংবর্ধনা শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি আশা করি, আজকের এই স্বীকৃতি তাদের আগামী দিনের উচ্চশিক্ষার পথকে আরও সুগম ও অনুপ্রেরণাদায়ী করবে।
বিশেষ অতিথি: মাষ্টার তাজুল ইসলাম বলেন, মেধাই জাতির আসল সম্পদ। আমাদের গ্রামের ছেলেমেয়েরা আজ শহরের শিক্ষার্থীদের মত প্রতিযোগিতা করে যেভাবে গোল্ডেন এ+ অর্জন করেছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আজকের কৃতি শিক্ষার্থী সাহিল সালাম, মোঃ জাবের, অর্পিতা রুদ্র, সুপ্তা রুদ্র ও শতাব্দী রুদ্রদের এই সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। বিশেষ অতিথি -সাধনপুর পল্লী উন্নয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, সহকারি অবসর প্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক মাষ্টার সাইফুর রহমান বলেন, ছাত্রজীবনে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং উৎসাহ পেলে শিক্ষার্থীরা কতদূর এগিয়ে যেতে পারে, তার উজ্জ্বল প্রমাণ আজকের এই আয়োজন। আমাদের ওয়ার্ডের এই ফলাফল সমগ্র বাঁশখালীতে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। আয়োজক ডাঃ মোহাম্মদ এজাজকে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য। বিশেষ অতিথি: সাধনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক উজ্জ্বল দে বলেন, শিক্ষার্থীদের আনন্দ ও অর্জনে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মেয়েরাও আজ বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগে সমানভাবে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছে, যা নারীশিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শিক্ষক ও সমাজকর্মী সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথি: গুনাগরী সাধনপুর আদর্শ সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, আজকের কৃতি শিক্ষার্থীদের আনন্দিত মুখগুলো দেখে শিক্ষক হিসেবে আমাদের সকল পরিশ্রম সার্থক মনে হচ্ছে। এই অর্জন কেবল শিক্ষার্থীদের নয়, বরং তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের ত্যাগের ফসল। আশা করি তারা এই ধারা বজায় রেখে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে।
বিশেষ অতিথি: সাধনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক কাঞ্চন দাশ বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের সামাজিক ও উৎসাহমূলক অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মনন গঠনে দারুণ ভূমিকা রাখে। আজকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান প্রমাণ করে যে আমাদের এলাকায় মেধার কোনো কমতি নেই, শুধু প্রয়োজন সঠিক মূল্যায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতা।বিশেষ অতিথি: চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক মাষ্টার মোহাম্মদ বেলাল বলেন, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে পারলে একটি সমাজ বদলে যায়। সাধনপুর ৯নং ওয়ার্ডের এই শিক্ষার্থীরা আজ পুরো উপজেলায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে।বিশেষ অতিথি: উপ প্রকোশলী (ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো), বিদ্যুৎ বিভাগ, ঢাকা) প্রকৌশলী আজিজুর রহমান বলেন। কর্মসূত্রের বাইরে নিজ এলাকার তরুণ প্রজন্মের এমন সাফল্য আমাকে ভীষণ আনন্দিত করেছে। গ্রামের মাটি থেকে উঠে আসা এই মেধাবী মুখগুলো একদিন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই। সাধনপুর পল্লী উন্নয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের
(সাবেক প্রধান শিক্ষক, মাষ্টার থোকন চক্রবর্তী সভাপতির বক্তব্যে আমি বলতে চাই, আজকের এই আয়োজনের মূল বার্তা হলো আমাদের সন্তানদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা। বাঁশখালীতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা এবং জিপিএ-৫ পাওয়া আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল শুরুর একটি ধাপ। আমি আশা করি, আজকের এই সংবর্ধনা তাদের মনে বড় হওয়ার স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করবে। অনুষ্ঠানটি সফল করতে যারা শ্রম ও সময় দিয়েছেন, তাদের সকলের প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।
https://slotbet.online/