নিজস্ব প্রতিবেদক : নাটোরের সিংড়া উপজেলার ১ নং সুকাশ ইউনিয়নের বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি লিজের টাকা থেকে ভাগ করে নেওয়া ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন বিএনপির দুই নেতা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের হস্তক্ষেপ এবং একটি জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর তারা ওই টাকা ফেরত দেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে সমপরিমাণ টাকা জমা দেন। পরে টাকা জমার ভাউচার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে দাখিল করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৪ ও ২৮ জুন বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১২ একর জমি প্রকাশ্যে মাইকিং করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ টাকায় লিজ দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই অর্থের মধ্য থেকে গ্রামের উন্নয়নের কথা বলে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেনের নাম আলোচনায় আসে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তর সহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের নির্দেশনার পর ইউএনওসহ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে টাকা উদ্ধারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই রোববার বিকেলে অভিযুক্ত দুই বিএনপি নেতা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের কাছে টাকা ফেরত দেন।
বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, “রোববার বিকেলে আব্দুস সোবহান শিক্ষা অফিসে এসে বিদ্যালয়ের ২ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। পরে ওই টাকা প্রতিষ্ঠানের যৌথভাবে পরিচালিত সিংড়া সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। সোমবার টাকা জমার ভাউচার শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনও কার্যালয়ে জমা দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।”
বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে বিএনপি নেতা আজমল হোসেন ১ লাখ টাকা এবং আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন ৭০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। পরে ওই অর্থ বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে এবং টাকা জমার ভাউচার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে।
টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সিংড়ার ইউএনও নিশাত আনজুম বলেন, বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
টাকা ফেরত পাওয়ায় বিদ্যালয় দুটির শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিষয়টি সামনে আসার পর সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনিক উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।
https://slotbet.online/