শহিদুল ইসলাম, প্রতিবেদক:
প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টির রহস্যময় অনন্য প্রকৃতির রূপ কর্ণফুলী নদী। সৃষ্টির এক অপার সম্ভাবনা ও রহস্যে ঘেরা চট্টগ্রাম। আর এ চট্টগ্রাম গড়ে উঠেছে কর্ণফুলী নদী ঘিরে। সৃষ্টিজগতের এক অনন্য নিদর্শনও বটে কর্ণফুলী নদী। যে নদীতে মিলিত হয়েছে পাহাড়, পর্বত, নদ-নদীসহ প্রকৃতির অপরূপ নিদর্শনগুলো। চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব বেড়েছে এই কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে। কর্ণফুলী নদী আজ পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে সয়লাব হয়ে চিরচেনা রূপ হারিয়ে ফেলেছে। তাই কর্ণফুলী নদীকে চট্টগ্রাম ও দেশের স্বার্থে রক্ষা করতে হবে। চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দরকে বাঁচাতে হলে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর বিকল্প নেই।
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের উপাচার্য, দেশের খ্যাতনামা নদী বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী নদী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের পরিবেশ সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের উদ্যোগে আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল চারটায় নগরের স্টেশন রোডের একটি হোটেলের সেমিনার কক্ষে বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সংগঠনের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বিএসসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাসের পাঠশালার সভাপতি, ইতিহাস গবেষক ও লেখক সোহেল মো. ফখরুদ দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, পরিবেশ শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ ইকবাল সরোয়ার, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব, বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা ও পরিবেশ সংগঠক অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা, চট্টগ্রামের খ্যাতনামা জলাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞ ও শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি স ম জিয়াউর রহমান ও সদস্য সোমা মুৎসুদ্দীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিনিয়র’স প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম মাহমুদ, সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান এস এম আজিজ, এ কিউ এম মোসলেম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এমরান, সদস্য এম নুরুল হুদা চৌধুরী, আকতার হোসেন নিজামী, জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি, আয়েশা সিদ্দিকা, আবদুল মোমেন মোল্লা, মাওলানা মাহাবুবুর রহমান, রোকন উদ্দিন আহমদ, চসিক সাবেক মেয়রপ্রার্থী এম এ ছালাম।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী ক্রমাগত ভরাট ও অপরিশোধিত বর্জ্যে সয়লাব হলে চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বন্দর হুমকির মুখে পড়বে। এখনই পরিকল্পিত ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঁচাতে উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী প্রজন্মকে কঠিন সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতা দূর করতে হলে এবং জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম নগরী গড়তে হলে কর্ণফুলীর প্রকৃত রূপ ফিরিয়ে আনতে হবে। দখল-দূষণমুক্ত কর্ণফুলী গড়তে না পারলে আগামী প্রজন্মের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে আমাদের সকলকে। কর্ণফুলী ও এর শাখাপ্রশাখা খালগুলোতে পুনরুদ্ধার করতে এবং নদীর অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে হবে আগামীর প্রজন্মের স্বার্থে।
সেমিনার শেষে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট চারজন ব্যক্তিকে ‘মার্ক এঞ্জেলো অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয় এবং শেষে সংগঠনের উদ্যোগ প্রকাশিত ‘গ্রীন চট্টগ্রাম-গ্রীন বাংলাদেশ’ স্মারক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
https://slotbet.online/