— সোহেল সরকার
প্রকাশক ও সম্পাদক, দৈনিক প্রতিবাদ
রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল প্রায়ই বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে—সাম্প্রতিক একটি ঘটনা এর দারুণ এক উদাহরণ। সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিল প্রতিপক্ষ। তাদের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল—ভিডিওটি ভাইরাল করার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি করা এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য “এডিট করা বা এআই-জেনারেটেড” দাবির ফাঁদে ফেলা।
কিন্তু মজার বিষয় হলো, আওয়ামী লীগ বা সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে ভিডিওটিকে ভুয়া বা কারসাজি বলে দাবি করার কোনো প্রয়োজনই পড়েনি। বরং ঘটেছে সম্পূর্ণ বিপরীত ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের কাছে ভিডিওটি কোনো নেতিবাচক বার্তা দেওয়ার বদলে রীতিমতো রোমান্টিসাইজড ও ট্রেন্ডিং কনটেন্টে পরিণত হয়েছে। কেউ এটিকে নিয়ে রসিকতা করেছেন, কেউ সেলিব্রেট করেছেন, আবার কেউ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাইপ স্মোক করার ঐতিহাসিক ছবির সঙ্গে মিলিয়ে সেটিকে ‘সিগমা’ স্টাইলে এডিট করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এককথায়, যে কনটেন্ট দিয়ে অপমান করার পরিকল্পনা ছিল, তা তরুণদের কাছে সজীব ওয়াজেদ জয়কে আরও আকর্ষণীয় বা ‘কুল’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
বাস্তবতার নিরিখে বিচার করলে দেখা যায়, সজীব ওয়াজেদ জয় আমেরিকায় বড় হয়েছেন এবং তাঁর জীবনের একটি দীর্ঘ সময় কেটেছে পশ্চিমা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে। একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবন বা পছন্দকে মূল্যায়ন করতে হলে তাঁর বেড়ে ওঠা, পারিবারিক পরিবেশ, শিক্ষা ও সামাজিক বাস্তবতা মাথায় রাখা জরুরি। ভিডিওটিতে দৃশ্যমান পানীয়টিকে নিয়ে যে গুঞ্জন তোলা হয়েছে, তারও কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয় যে সেটি মদ বা ওয়াইন ছিল, তবুও কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নৈতিক পুলিশিং করার অধিকার কারও নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনের এমন বহু মুহূর্ত অতীতে জনসম্মুখে এসেছে। একটি খণ্ডিত ব্যক্তিগত মুহূর্তকে রাজনৈতিক চরিত্রের মাপকাঠি বানানোর চেষ্টা মূলত রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছু নয়।
যারা ভিডিওটি ছড়িয়েছিলেন, তাদের হয়তো উদ্দেশ্য ছিল জয়কে হেয় করা। কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেদের উদ্দেশ্যেই নিজেরাই পানি ঢেলে দিয়েছেন। রাজনীতি মানে কারও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে চরিত্রহনন নয়; রাজনীতি হলো নীতি, আদর্শ, নেতৃত্ব এবং জনগণের জন্য কাজের হিসাব। যারা মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, পোশাক, খাওয়া-দাওয়া কিংবা অভ্যাস নিয়ে ফতোয়া দিতে অভ্যস্ত, তাদের নিজেদের রাজনৈতিক ও নৈতিক মানদণ্ড আয়নায় দেখা প্রয়োজন।
উচ্চতার পার্থক্য কেবল পোশাকে নয়, চিন্তার উচ্চতাতেও প্রকাশ পায়। সজীব ওয়াজেদ জয়কে ছোট করতে গিয়ে যে কৌশল নেওয়া হয়েছিল, দিনশেষে তা তাঁর সমর্থকদের কাছে আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বেরই প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিপক্ষের এই আত্মঘাতী প্রচেষ্টা আবারও প্রমাণ করল—রাজনীতিতে দূরদর্শিতার অভাব থাকলে গোল নিজেদের জালেই জমা হয়।
https://slotbet.online/