দিনে মানববন্ধন, রাতে গরু চুরির অভিযোগ! শ্রীবরদীতে প্রতিবাদকারীদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন
শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও সেবাদানকারীদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গরু চুরির অভিযোগে আব্বাস উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির আটক হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ওই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তির ভূমিকা ও উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও সেবাদানকারীদের বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন আব্বাস উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি। মানববন্ধনে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও সেবার মান নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই দিন রাতেই আব্বাস উদ্দিন একটি গরু চুরির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে মারধর করেন। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে, মানববন্ধনকে ঘিরে আরও কিছু বিতর্কিত বিষয় সামনে এসেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মী তারেককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত রতনের বাবাও ওই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রতনের মারধরে তারেকের কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে রেজাউল করিম ওরফে ফাক্কু নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নেতৃত্বে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা গেছে। তাঁর ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবাদানকারীদের বিরুদ্ধে আয়োজিত ওই মানববন্ধনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? সত্যিই কি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন ও রোগীদের স্বার্থ রক্ষাই ছিল প্রতিবাদের লক্ষ্য, নাকি এর পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো স্বার্থ জড়িত ছিল?
মানববন্ধন গণতান্ত্রিক অধিকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা তুলে ধরা অবশ্যই নাগরিক অধিকার। তবে সেই প্রতিবাদের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে অভিযোগের সত্যতা, প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁদের দায়িত্বশীলতার ওপর।
কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। একইভাবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজের কিংবা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
জনস্বার্থের নামে আয়োজিত প্রতিবাদ যেন ব্যক্তিগত স্বার্থ, প্রতিহিংসা কিংবা কাউকে হেয় করার হাতিয়ারে পরিণত না হয়—এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের।
সত্য উদ্ঘাটিত হোক, প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, সেবাদানকারী ও রোগীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকুক—এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
https://slotbet.online/