শহিদুল ইসলাম, প্রতিবেদক:
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক মরহুম কবি আবুল বশর আনসারীর লেখা ‘পবিত্র সিলেট ভূমি এবং কি সুন্দর চৌকিদেখি’ শীর্ষক কবিতার স্মৃতিফলক পরিদর্শন করেছেন বিশিষ্ট অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক হেলাল খান।
এ সময় কবি সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে চিত্রনায়ক হেলাল খান বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মরহুম কবি আবুল বশর আনসারী কেবল একজন দেশপ্রেমিক সংগ্রামী নেতাই ছিলেন না, তাঁর কালজয়ী লেখনীতে সিলেটের পুণ্যভূমি, প্রকৃতি ও শেকড়ের প্রতি যে গভীর মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে, তা নতুন প্রজন্মকে চিরকাল দেশপ্রেম ও মানবিকতায় অনুপ্রাণিত করবে।”

সম্প্রতি ২২ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) রাতে ‘সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে সিলেট নগরীর চৌকিদেখিস্থ কবির নিজ বাসভবন ‘জেনেত কটেজ’ (১৬৬/বি, রংধনু)-এ স্থাপিত এই ফলকটি পরিদর্শন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘জাসাস’ কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক এবং সিলেটের কৃতী সন্তান চিত্রনায়ক হেলাল খান।
পরিদর্শনকালে যুক্তরাজ্য থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে উপস্থিত সবার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কবি’র বড় মেয়ে এবং লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও কাউন্সিলর মাদার জেনেত, মেঝো ছেলে রাহিল আক্তার, নাতি আদম সুলেমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কবি’র ছোট ছেলে আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমজাদ সুলেমান এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাসুম আহমেদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি সৈয়দ মোজাফফর হোসেন, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জহির চৌধুরী, কাজী দিদার মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নেতৃবৃন্দ।
চিত্রনায়ক হেলাল খান ফলকটি পরিদর্শন করায় তাঁকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, “সিলেটের কৃতী সন্তান ও নন্দিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব চিত্রনায়ক হেলাল খানের এই পরিদর্শন মরহুম কবি আবুল বশর আনসারীর স্মৃতির প্রতি এক অনন্য সম্মাননা এবং আমাদের সংগঠনের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গুণীজনদের স্মৃতি সংরক্ষণের মানবিক উদ্যোগকে আরও বেগবান ও অনুপ্রাণিত করেছে।”

সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং সিলেট ও চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক মেলবন্ধন:
সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আর্তমানবতার সেবা, গুণীজন ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণ, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের দুটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল—সিলেট ও চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দুই অঞ্চলের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আঞ্চলিকতার দিক থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর পুণ্যভূমি সিলেট এবং বারো আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রাম-এর মধ্যে রয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে এক গভীর আত্মিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন:
আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র: সুফিবাদ ও ওলি-আউলিয়াদের হাত ধরে ইসলাম প্রচারের ইতিহাস এই দুই অঞ্চলকে এক অভিন্ন আধ্যাত্মিক সুতোয় গেঁথেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধেও সিলেট ও চট্টগ্রামের বিপ্লবী মানুষের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।

ভাষা, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিকতার ঐক্য: দুটি অঞ্চলেরই রয়েছে নিজস্ব সমৃদ্ধ আঞ্চলিক ভাষা (সিলেটি ও চাটগাঁইয়া), লোকসাহিত্য, মরমি গান এবং অনন্য আতিথেয়তার ঐতিহ্য, যা বাংলাদেশের মূলধারার সংস্কৃতিকে করেছে আরও বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ।
প্রবাসী ও অর্থনৈতিক অবদান: দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ, চা-শিল্প, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সিলেট ও চট্টগ্রামের মানুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
এই দুই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্ব, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারস্পরিক সম্প্রীতিকে আরও এগিয়ে নিতেই ‘সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশন’ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
https://slotbet.online/