ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে সড়কে বাড়ছে ঝুঁকি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
চট্টগ্রামের প্রধান সড়কে পিঁপড়ার সারির মতো অটোরিকশা, রাউজান–ফটিকছড়ি–হাটহাজারীতে দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বে
নিজস্ব সংবাদ দাতা চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে আঞ্চলিক সড়ক—বিভিন্ন স্থানে এসব যানবাহনের চলাচল সড়ক নিরাপত্তা, যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে রাউজান, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে উত্থাপিত দাবি অনুযায়ী, রাউজান, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এলাকায় মাসে ৪৫টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে এসব দুর্ঘটনার মধ্যে কতটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে ঘটেছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রধান সড়কে অবাধ চলাচল, নিয়ন্ত্রণ কোথায়?
চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এসব যানবাহনের নিবন্ধন, চলাচলের অনুমতি, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন মানার বিষয়গুলো কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা নিয়ে কার্যকর নজরদারির দাবি উঠছে।
সড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি ধীরগতির অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, ভুল পথে প্রবেশ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের ঘটনা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এসব কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে প্রয়োজন পুলিশি তথ্য, দুর্ঘটনার রেকর্ড ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান।
সারা চট্টগ্রামে ৫ লাখ অটোরিকশার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, উঠছে ঘুষের অভিযোগও
ট্রাফিক পুলিশ ও সড়ক বিভাগের বিশেষ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানা যায়, দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বৈধভাবে চলাচল করছে কি না—এমন প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। তবে এই সংখ্যার নির্ভরযোগ্য সরকারি উৎস এবং যানবাহনগুলোর নিবন্ধন বা অনুমোদনের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা জরুরি।
অন্যদিকে, এসব যানবাহনের অনুমোদন বা চলাচলের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সত্য কি না, তা নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট তথ্য, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন। প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির জন্য দায়ী করা সমীচীন নয়।
ট্রাফিক পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যক্রম কতটা কার্যকর—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কোথায় এসব যান চলাচলের অনুমতি রয়েছে, কোথায় নিষেধাজ্ঞা আছে এবং আইন অমান্য করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকেরা।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অভিযান, অনুমোদন যাচাই, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে কার্যকর নজরদারি জরুরি।
দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, যানবাহনের বৈধতা যাচাই, নিরাপদ চলাচলের উপযোগী সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা।
রাউজান, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দুর্ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা, অটোরিকশার সংশ্লিষ্টতা এবং অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হলে পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে।
জনস্বার্থে প্রশ্ন—সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? অনুমোদন ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি? এসব প্রশ্নের জবাব এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই প্রত্যাশিত।
https://slotbet.online/