মোঃ শুকুর আলী, স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জ-কাছিরগাতি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কে প্রায় ৮৭ কোটি টাকার উন্নয়নকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। সড়কের গার্ডওয়ালে ফাটল ও হেলে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল।
এর আগে মঙ্গলবার বিশ্বম্ভরপুর থেকে ফেরার পথে স্থানীয়রা সংসদ সদস্যকে সেতুর সংযোগ সড়কের গার্ডওয়ালে ফাটল ও নির্মাণত্রুটি দেখান। পরে বুধবার বেলা ১১টায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি। তবে এ সময় ঠিকাদার বা সাব-ঠিকাদারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে, আমি নিজেই তার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করতে গিয়ে কোনো অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করব না।’ অভিযোগটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।
জানা গেছে, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় লালপুর-সালামপুর সেতুসহ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পের সাবেক সাব-ঠিকাদার আজাদ হোসেন দাবি করেন, তিনি প্রায় ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও পরে অন্য ব্যক্তিকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তাঁর অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা মিয়া ও আরিফ রব্বানী হিমেল অভিযোগ করেন, নিম্নমানের ইট, বালু ও মাটি ব্যবহার এবং যথাযথভাবে মাটি কম্প্যাকশন না করায় গার্ডওয়াল হেলে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৩৭ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। গার্ডওয়ালের ত্রুটির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কাজের মান নিশ্চিত করতে ঠিকাদারকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাজিদুর রহমান, জেলা বিএনপি নেতা মো. আকবর আলী, মো. রেজাউল হক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হারুন, বিএনপি নেতা মো. আব্দুল হাই, যুবদল নেতা মমিনুল হক কালারচাঁন, কামরুল হাসান রাজু ও ছাত্রদল নেতা নাঈম আহমদ শিশিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে প্রকল্পের নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
https://slotbet.online/