মোঃ শামসুজ্জোহা
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জি আই টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। উপজেলার সাতটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮২ দশমিক ২৪ শতাংশ পাসের হার অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। সামগ্রিক ফলাফলে যেখানে উপজেলার কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে, সেখানে প্রতিষ্ঠানটির এমন সাফল্য প্রশংসার দাবি রাখে।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জি আই টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার মোট ১০৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ৮৮ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৯ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮২ দশমিক ২৪ শতাংশ। উপজেলার সাতটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৩৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৭১ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৮৬ জন। সব মিলিয়ে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হারের চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
প্রতিষ্ঠানটির এ সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের আন্তরিকতা, নিরলস পরিশ্রম এবং শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়কে গুরুত্ব দিচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জি আই টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সোলায়মান কবির বলেন, “আমাদের এই ফলাফলে আমরা আনন্দিত। আমাদের শিক্ষকদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আন্তরিক পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য এসেছে। এ অর্জন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মান ধরে রেখে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য আমরা কাজ করে যেতে চাই।”
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইসহাক তফের আলী টেকনিক্যাল কলেজে পাসের হার ৫০ দশমিক ৬১ শতাংশ, তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ৫০ শতাংশ এবং নিমগাছি আইডিয়াল বিএম কলেজে ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে, জহির উদ্দিন বিজ্ঞান কারিগরি কলেজে পাসের হার ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, বস্তুল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজে ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ, তালম টেকনিক্যাল বিএম কলেজে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ এবং রঘুনিলী বিজ্ঞান ও কৃষি প্রযুক্তি কলেজে ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ।
সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে জি আই টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভালো ফলাফল উপজেলার কারিগরি শিক্ষাঙ্গনে আশাব্যঞ্জক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলাফলের এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি কারিগরি জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষায় আরও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলাই হবে আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
তাড়াশ উপজেলার কারিগরি শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে সফল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
https://slotbet.online/