বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
পড়াশোনার চাপ, সামনে পরীক্ষা এবং পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার ভয়—এসব মানসিক চাপে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে চিরনজিত নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
চিরনজিত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে পাড়িয়া এলাকার লোহাগাড়া আঠোয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা প্রেমলালের ছেলে। একমাত্র ছেলেকে ঘিরে বাবা-মায়ের ছিল নানা স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। কিন্তু সেই স্বপ্নের মাঝেই শনিবার বিকেলে চিরনজিতের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পর বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্বজনদের কান্নায় সেখানে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির।
মৃত্যুর আগে লেখা একটি চিরকুটে চিরনজিত তার বাবা-মা, দাদা-দাদি ও ছোট ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে সে পড়াশোনা নিয়ে নিজের দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে।
চিরনজিত লিখেছে, সামনে পরীক্ষা থাকলেও তার অনেক বই পড়া শেষ হয়নি। এ নিয়ে সে কী করবে বুঝতে পারছিল না। একই সঙ্গে পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার জন্য বাবা-মায়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার অপরাধবোধের কথাও চিরকুটে উল্লেখ করেছে।
পরিবারের প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়ে সে তার ছোট ভাইকে ভালোভাবে মানুষ করার অনুরোধও করেছে। তার এই শেষ কথাগুলোই স্পষ্ট করে দেয়, একজন কিশোরের মনে জমে থাকা ভয়, অপরাধবোধ ও চাপ কতটা অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।
চিরনজিতের এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের জন্যও একটি গভীর সতর্কবার্তা। একটি পরীক্ষা, একটি ফলাফল কিংবা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া কোনোভাবেই একটি জীবনের চেয়ে মূল্যবান নয়। সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও চাপ না দিয়ে তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, মানসিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা নেওয়া পরিবারের দায়িত্ব।
https://slotbet.online/