- আনিছুর রহমান নিজস্ব প্রতিবেদক:-
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে রান্নাঘরের ধোঁয়াকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীসহ দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গত ৩ অক্টোবর মুরাদনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একই গ্রামের জুলেখা (৫০)। তিনি মো. ফরিদের স্ত্রী।
অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে একই গ্রামের মৃত মো. শফিকের ছেলে টিকটকার সাইফুল ইসলাম (২৮), তাঁর মা ও মৃত মো. শফিকের স্ত্রী মোর্শেদা এবং মৃত মো. মজিদের ছেলে ওহিদকে (৪০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে (অভিযোগপত্রে সময় আনুমানিক ১১টা) কাজিয়াতল সাকিনে জুলেখার স্বামীর বসতঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জুলেখা অভিযোগে বলেন, প্রায় দুই মাস আগে তাঁদের উত্তর ভিটায় নতুন একটি রান্নাঘর তৈরি করা হয়। ঘটনার দিন ওই রান্নাঘরের ধোঁয়াকে কেন্দ্র করে বিবাদীরা দৌড়ে এসে হামলা চালান। তাঁদের একজনের হাতে কাঠ, একজনের হাতে বাঁশ এবং আরেকজনের হাতে বঁটি দা ছিল। তাঁরা রান্নাঘর ভাঙচুর করেন।
জুলেখার ভাষ্য, তখন তাঁর স্বামী কাজে থাকায় বাড়িতে অন্য কোনো পুরুষ ছিলেন না। বাধা দিতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, লাঠির আঘাতে জুলেখার বড় মেয়ে শিউলি আক্তার (৩৫) তলপেটের নিচে গুরুতর জখম হন। তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কিল-ঘুষিতে জুলেখাও আহত হন এবং তারা উভয়ে চিকিৎসা নেন।
জুলেখা আরও বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিবাদীরা গ্রাম্য বৈঠকে সাড়া না দেওয়ায় থানায় অভিযোগ করতে দেরি হয়।
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি হামলার ঘটনা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এটা ঠিক, আমার মায়ের দোষ আছে। আমার মা-ই প্রথমে একটি কাঠ হাতে হামলা করেন। তবে আমার মায়ের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাদী আমাদের আত্মীয়, আমরা বাড়িতে বসে সমঝোতার চেষ্টা করছি।”
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ইতিমধ্যে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করেছেন। প্রকাশ্যে ও গোপনে আরও তদন্ত হবে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
https://slotbet.online/