স্টাফ রিপোর্টার:
একটি সরকার পরিবর্তন হলেই কি মানুষের সব প্রত্যাশা পূরণ হয়ে যায়? রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল কি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার, ন্যায়বিচার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে?
আমার উত্তর—শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি।
বিএনপি সরকার যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে, তখন তাদের কাছে আমার প্রত্যাশাও তাই অনেক বেশি। যারা দীর্ঘদিন গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও সুশাসনের কথা বলেছেন, ক্ষমতায় এসে তাদের সেই কথার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাই।
আমি এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে দলীয় পরিচয় মানুষের অধিকার নির্ধারণ করবে। আমি এমন বাংলাদেশও চাই না, যেখানে ক্ষমতাবানদের জন্য এক আইন আর সাধারণ মানুষের জন্য আরেক আইন থাকবে।
সরকারের সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়। বরং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরার সুযোগ থাকা জরুরি। কারণ প্রশ্নহীন ক্ষমতা ধীরে ধীরে জবাবদিহিহীন ক্ষমতায় পরিণত হয়।
বিএনপি সরকারের কাছে আমার প্রশ্ন—আপনারা কি সত্যিই এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চান, যেখানে একজন সাধারণ মানুষও ক্ষমতাবান ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবেন? যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রমাণ ও আইনই হবে বিচারের ভিত্তি?
আমি চাই প্রশাসন দলীয় প্রভাবমুক্ত হোক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক। কোনো অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অপরাধী যে দলেরই হোক, তার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হোক।
আমরা শুধু সরকার পরিবর্তন চাইনি; আমরা চেয়েছি রাষ্ট্রের সংস্কার। আমরা শুধু নতুন মুখ চাইনি; আমরা চেয়েছি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
ক্ষমতা জনগণের দেওয়া আমানত। সেই আমানতের মর্যাদা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।
তাই বিএনপি সরকারের কাছে আমার সরাসরি আহ্বান—প্রতিশ্রুতির বাংলাদেশ নয়, বাস্তবের বাংলাদেশ গড়ে তুলুন। বিরোধী মতকে সম্মান করুন, সমালোচনাকে গ্রহণ করুন, প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করুন এবং জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিন।
কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো দলই চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতাও চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু রাষ্ট্র ও জনগণ থেকে যায়।
আমি এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে সরকারকে ভয় নয়—প্রশ্ন করা যাবে; ক্ষমতাকে নয়—আইনকে সর্বোচ্চ মনে করা হবে।
https://slotbet.online/