• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
কক্সবাজারে বাসে ১৮ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ৩ নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় মনে রেখো বাংলাদেশ! সিলেটের চৌকিদেখিতে কবি আবুল বশর আনসারীর স্মৃতিফলক পরিদর্শনে চিত্রনায়ক হেলাল খান টেকনাফ নয়াপাড়া ক্যাম্পে ইট-বালু-সিমেন্ট বিক্রি, রোহিঙ্গার কারাদণ্ড তাড়াশে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান, জব্দ ২ এক্সকাভেটর ও ডাম্প ট্রাক রাজস্ব ফাঁকির সংবাদ প্রকাশের জেরে মামলা, জামিন পেলেন দুই সম্পাদক টেকনাফে রাস্তা দখল করে দোকান, রোহিঙ্গা যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড টেকনাফে সিএনজির ভিতরে ২০ হাজার ইয়াবা, চালক আটক উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির দুই অভিযানে ১ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার টেকনাফে যৌথ অভিযানে মানবপাচারকারী কবিরসহ গ্রেপ্তার ১৩ রায়গঞ্জে মৎস্য প্রকল্পের খুঁটি-তার সরানোর অভিযোগ, তদন্তে জেলা মৎস্য বিভাগ শীতের আমেজ ছড়াতেই খেজুরের রসের আশায় গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত তাড়াশের গাছিরা সেন্টমার্টিনে কোস্ট গার্ডের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসা পেলেন ২৩২ জন ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের ডাকাতি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার বাঁশখালীতে রাতের আঁধারে বসতঘর দখল ও লুটপাট: সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিককে হেনস্থা ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগ রায়গঞ্জে অটোচালক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশের গরু চুরি মামলা: রামেশ্বরগাতী থেকে গ্রেপ্তার ৩৮ বছর বয়সী ইব্রাহিম তাড়াশে কবরস্থানের বিদ্যুতের তার চুরি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাউজান গর্জনিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে( সুবর্ণ জয়ন্তীসফলকল্পে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত পূর্ব আকাশ কুড়ি যুব সংঘ বনাম নব উন্নয়ন যুব ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত এক বিশাল হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর ছাতকের জাউয়াবাজারে জাহাঙ্গীরকে ঘিরে নানা অভিযোগ উখিয়ায় পৃথক অভিযানে ২০ হাজার ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক চট্টগ্রামের প্রধান সড়কে পিঁপড়ার সারির মতো অটোরিকশা, রাউজান–ফটিকছড়ি–হাটহাজারীতে দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ টেকনাফে চাকমারকুল ক্যাম্পে চুরি মামলায় তিন রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার, ব্যাটারি উদ্ধার টেকনাফের শাহপরীতে কোস্ট গার্ডের অভিযান, ৫০ হাজার ইয়াবা জব্দ চলনবিল মহিষলুটিতে শুঁটকির বাজারে চড়া দাম, লোকসানে  ব্যবসায়ীরা টেকনাফে যৌথ অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ পলাতক আসামি গ্রেপ্তার উখিয়ায় ২০ হাজার ইয়াবাসহ যুবক আটক টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে অভিযান: মামলার পলাতক রোহিঙ্গা আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন-উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্তি  তাড়াশ পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন শুভেচ্ছান্তে মোছাঃ ইতি সরকার স্বামী: মরহুম মিজানুর রহমান বারী সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কাগইল ইউনিয়ন পরিষদ, গাবতলী, বগুড়া। টেকনাফে ৩২ হারানো মোবাইল উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে এসএসসি ’৯১ বন্ধুদের মহামিলন মেলা সফল করতে অ্যাডমিন প্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা টেকনাফে ১০০ জেলেকে বিজিবির খাদ্য সহায়তা সাংবাদিক হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে তাহিরপুরে মানববন্ধন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি। কক্সবাজারে এসআরবি-১৫’র অভিযানে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৪ তেজগাঁও বিভাগে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৭৬ ভিনি রিয়ালে খেলে যথেষ্ট সম্মান পাচ্ছে না: মরিনিও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উখিয়ার দারোগা বাজারের প্রধান পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন এমপি শাহজাহান চৌধুরী টাঙ্গাইলে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত তুলি এমপির ঘনিষ্ঠ শ্যুটার লেলিন গ্রেপ্তার দুর্গাপূজায় উপকূলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কোস্ট গার্ড উখিয়ায় অপহরণ মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিনা অনুমতিতে অবস্থান, যুবকের এক মাসের কারাদণ্ড ১৯ মামলার তাড়াশের কুখ্যাত গরু চোর লিটন শেখ আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার বাঁশখালীতে ৩৯ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১: নেপথ্যে জড়িত অন্য সহযোগীকে মামলা টেকনাফে অস্ত্রসহ ‘করিম ডাকাত’ আটক, অপরাধীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান টেকনাফে ১৬ এপিবিএনের বিশেষ যৌথ অভিযান, আটক ১৭ শেখ রাসেল দিবস: আলোকময় শৈশব ও কালজয়ী মানবিক চেতনা** ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার মামলার মূল হোতা সলিম উল্লাহ গ্রেপ্তার উখিয়ার হুমায়ুন হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি মরিচ্যায় গ্রেপ্তার উখিয়ায় এক লাখ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক তাড়াশে বেশি দামে সার বিক্রি, ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবিতে বকশীগঞ্জে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল। টেকনাফে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক টেকনাফে নিখোঁজ ১২ বছরের রোহিঙ্গা শিশু উদ্ধার টেকনাফে জননিরাপত্তায় নতুন সেনা ক্যাম্প রঙ্গিখালী-বড় ডেইল এলাকায় প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন রাজশাহীতে জমি ও দোকানঘর দখলচেষ্টার অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন তাড়াশে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে  প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তায় পুলিশ চাকমারকুলে নিখোঁজ রোহিঙ্গা কিশোর ও চট্টগ্রামের কিশোরী উদ্ধার কক্সবাজারে রিমন হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার: ৪৯ মণ্ডপে ৩০৬ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন সিরাজগঞ্জ তাড়াশে বাড়ির টয়লেটের পেছন থেকে দুইটি গা-ঁজার গাছ উদ্ধার উখিয়ায় ৫০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছন সেভেন রিংস সিমেন্টের উপদেষ্টা – এরশাদ আলী আজাদ। তাড়াশে ৭০ বস্তা সার জব্দ, ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের ২৩ সদস্যের কার্যকরী পরিষদ ঘোষণা শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে মাঠে জামালপুর ৩৫ বিজিবির ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, মন্ডপ পরিদর্শন! সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৭০ বস্তা সার জব্দ, ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় টেকনাফে বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি উখিয়ায় ৭০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস: সভ্যতার মূল কারিগরদের অবদানের স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শুরু নরমাল ডেলিভারিসেবা স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ প্রসবসেবার সুযোগ, কমবে প্রসূতিদের ভোগান্তি; বকশীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মার্কিন জাল ডলারসহ দুই যুবক আটক। বকশীগঞ্জে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ। প্রবাসীদের রক্তঘামে গড়ে ওঠা সমৃদ্ধি: স্বীকৃতি ও সুরক্ষার অধিকার লন্ডনে প্রবাসীদের মিলনমেলা: বিমান ভাড়া হ্রাস ও যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত নিয়ে আলোচনা, সিদ্ধান্ত আসতে পারে কয়েক দিনের মধ্যে টেকনাফে দুই ওয়ারেন্টে আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশে সংবাদ প্রকাশের পর চিকিৎসার ব্যবস্থা হচ্ছে তানজিলের বিশ্বম্ভরপুরে ওয়ার্ড সভা ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে সচেতনতামূলক সভানয় ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ নানা দাবি, পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা ও ৫৮৮ নারীর মাঝে চাল বিতরণ মীরজাফর, মোশতাকের পর ড. ইউনূস: ঘৃণাভরে উচ্চারিত নামের তালিকায় নতুন সংযোজন সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখুন: একটি সুন্দর ভবিষ্যতের পূর্বশর্ত মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত: অসুস্থ তানজিমের পাশে জিকেএস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর শিক্ষার আলো ছড়াতে নানিয়ারচর জোনের মানবিক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ টেকনাফের তিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক অভিযান, সাজা পেলেন ৪ জন উখিয়ায় ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, পিস্তল-গুলি ও ডুবন্ত নৌকা জব্দ; আটক ৩ কক্সবাজারে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস প্রশাসনের মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে বেহেলীতে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন সাদরুল আমীন। বিশ্বম্ভরপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, নির্বাচিত দুই ইউনিয়নের ৬ ওয়ার্ড ফতেপুর ও সলুকাবাদ ইউনিয়নে কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্ব পাচ্ছে সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫৭ বছর: মুক্তিযুদ্ধের গৌরব, শ্রমিকের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম তাড়াশে তানজিলের পাশে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা টেকনাফে ইভটিজিংয়ের দায়ে রোহিঙ্গা যুবকের ২ মাসের কারাদণ্ড আমাদের নিখোঁজ শিশুরা: সংখ্যার বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি – নিকোলাস বিশ্বাস কক্সবাজারে ৩ লাখ ইয়াবাসহ সিএনজি জব্দ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

২৩ জুন পলাশীর পরাজয় ইতিহাসের কালো অধ্যায়

।। এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।। / ৩৫০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪

যে জাতি তার ইতিহাস জানে না বা জানতে চায় না, তাদের মতো দুর্ভাগা আর কেউ আছে বলে মনে হয় না। আমরা সবাই বলি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন দু:খজনক হলেও সত্য কেউ আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই না। আমাদের সবারই পলাশী থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। পলাশীর ট্র্যাজেডির জন্য যতটা ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি দায়ী ঠিক ততটাই নবাবের কাছের লোকেরাও দায়ী।

২৩ ই জুন, ঐতিহাসিক পলাশী ট্রাজেডি দিবস। ১৭৭ সালের ২৩ ই জুন পলাশীর আমবাগানে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব নবাব সিরাজ উদ্দৌলা বনাম ইংরেজিদের যুদ্ধ যুদ্ধ নাটকের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত গিয়েছিল। সেদিন স্বাধীনতার যে সূর্য্য অস্ত গিয়েছিল তার আবার ফিরে পেতে ২০০ বছরের বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে বাঙালি জাতিকে। পলাশীর প্রান্তে নবাবের পরাজয় আমাদের গোটা জাতির জন্য বিরাট বড় শিক্ষা। হতাশাজনক হলেও সত্য, পলাশী যুদ্ধের পরাজয় থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা আজও আমরা কাজে লাগাতে পারিনি বা পারছিও না। মীর জাফর, উর্মিচাঁদ ও রবার্ট ক্লাইভের মতো ষড়যন্ত্রকারীদের মৃত্যু হলেও আজও তাদের প্রেতাত্মা এ বাংলার কিছু মানুষের ঘাড়ে চেপে বসে আছে।

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন দেশীয় বণিক, বিশ্বাসঘাতক ও ইংরেজ বেনিয়াদের চক্রান্তে পলাশীর প্রান্তরে ২০০ বছরের জন্য বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। এক ঘণ্টার যুদ্ধ নামক প্রহসনে পরাজয় ঘটে বাংলা, বিহার ও ওরিস্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার। পলাশীর ২৩ জুনের ইতিহাস প্রকৃত সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করার ইতিহাস, বিশ্বাস ঘাতকতার ইতিহাস। সে দিন কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদের পথে হুগলি, কাটোয়ার দুর্গ, অগ্রদ্বীপ ও পলাশীতে নবাবের সৈন্য থাকা সত্বেও তারা কেউ ইংরেজদের পথ রোধ করে নাই। নবাব বুঝতে পেরেছিলেন, সেনাপতিরাও এই ষড়যন্ত্রে শামিল। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে আর করার কিছু ছিল না নবাবের।

নবাবের নিজের লোকদের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের অধিকাংশ সৈন্য সেদিন নিরব দর্শকের মতো নবাবের পরাজয়কে দেখেছিলো। বাংলার তরুণ নবাব নিজের জীবন দিয়েও বাংলার স্বাধীনতাকে সেদিন রক্ষা করতে পারেননি। উপনিবেশিক ইংরেজি শক্তির অর্থ-বিত্ত ও ক্ষমতার লোভে সেদিন অন্ধ হয়ে বাংলার স্বাধীনতা বিক্রি করে দিয়েছিলো বিশ্বাসঘাতকেরা। সেদিন নবাবের সভাসদ ও সেনাপতিরা তারা সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করলে আজকে বাংলার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। নবাবের পরাজয় ছিল রাজনৈতিক, সামরিক শক্তির পরাজয় নয়।

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘কান্ডারী হুঁশিয়ার’ কবিতায় পলাশীর যুদ্ধে চিত্র তুলে ধরেছেন এভাবে :
“কান্ডারী!তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,
বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর!
উদিবে সে রবি আমাদেরই খুনে রাঙিয়া পূনর্বার।”

পলাশী যুদ্ধ সম্পর্কে রবার্ট ক্লাইভ তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, ‘সেদিন স্থানীয় অধিবাসীরা ইংরেজদের প্রতিরোধ করতে চাইলেই লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল মেরেই তাদের খতম করে দিতে পারত। কিন্তু এ দেশবাসী তা উপলব্ধি করতে পারেনি।’
পলাশী যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন বাবের পরাজিত হওয়ার মূল কারণ কী? তা সঠিকভাবে আজও আমরা উপলব্ধি করতে পারি নাই। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এই যে পলাশী যুদ্ধে রবার্ট ক্লাইভের মাত্র ৩ হাজার ২০০ সৈন্যের কাছে সিরাজউদ্দৌলার ৫০ হাজার সৈন্যের অভাবনীয় পরাজয় ঘটে। আশ্চর্যজনক ব্যাপার একটা দেশের হাজারো সৈন্য পরবর্তী সময়ে কোথায় গেল?

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার ইতিহাসের ভিলেন শুধু যেন মনে হয় মুসলমান মীরজাফরের কথা, যেন প্রমাণ হয় মুসলমান জাতি মানেই বিশ্বাসঘাতক জাতি। তাই আজ মুর্শিদাবাদ জেলা ও মুসলমান জাতি পর্যন্ত বাংলার বাতাসে যেন কলঙ্ক, কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস এই কথাই বলে, ইংরেজদের বিরুদ্ধে যে স্বাধীনতার আকাশ ধোঁয়া অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত হয়েছিল তা মুসলমানদের হাতেই। সিপাহি বিদ্রোহ তাঁর জ্বলন্ত প্রমাণ। আজ যেমন মীরজাফর ও ঘষেটি বেগমের কথা বারবার করে বলা হয়, তেমন জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভ, উমিচাঁদদের কথা কেন বারবার বলা হয় না ? এ প্রশ্নটি আজ সবার মনে। ইংরেজরা যখন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পিঞ্জিরাবন্ধি পাখির মতো বন্দি করেছিল তখন সিরাজের সমস্ত চাকর-চাকরানী আর নবাবের ছিল না বরং ইচ্ছার বিরুদ্ধেও ক্লাইভ আর ওয়াটসেনর হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছিল।

এমতাবস্থায় ইতিহাসে মুসলিম চরিত্রকে কলঙ্কিত করার পরিকল্পিত বুদ্ধিতেই নবাবের সাহায্যপুষ্ট মোহাম্মদী বেগকেই আদেশ করা হয়েছিল নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে হত্যা করতে। মোহাম্মদী বেগ তাতে রাজি না হওয়ায় তারও প্রাণদন্ড দেয়া হবে বলে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল। তখন অনন্য উপায় নিরক্ষর-বোকা মোহাম্মদী বেগ অশ্রু সংবরণ করেও মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই হত্যা করতে বাধ্য হয়েছিল। যদি মহম্মদী বেগ শিক্ষিত জ্ঞানী হতো তাহলে ইংরেজদের আদেশ প্রত্যাখ্যান করে নিজের প্রাণদন্ডকেই অমৃত জ্ঞানে বরণ করে মীর মদন আর মোহন লালের মতো ধন্য হতে পারত। নবাব যখন একটু অসহায়ের মতো বেঁচে থাকার আবেদন করেছিল তখন মহম্মদ বেগ একথা বলেনি যে, আমরা তা দেব না। বরং তার ভাষাতে হৃদয়ের অবধারিত প্রেমধারাই প্রবাহিত হয়েছিল, ‘না তাঁরা তা দেবে না’। এই তারা কারা?

যেকোনো কারণেই হোক সেদিন বাংলার মানুষ এগিয়ে যায়নি। তাদের রাজনৈতিক সচেতনতার তখন খুবই অভাব ছিল। পলাশীর ট্র্যাজেডির পরেও বাংলার সাধারণ মানুষ, কৃষক সমাজ দৈনন্দিন জীবন, নিত্যদিনের মতোই মাঠে কৃষিকাজ করেছে। ফসল বুনেছে। অথচ পলাশীর যুদ্ধে গোটা জাতীয় জীবনে কী নিদারুণ ভাগ্য বিপর্যয় ঘটল, কয়েক ঘণ্টার প্রহসন যুদ্ধে গোটা জাতির স্বাধীনতা হরণ করে নিয়ে গেল গোটা কয়েক বেনিয়া ইংরেজ অথচ তাদের টনক নড়ল না। টনক যখন নড়ল, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাদের আর তখন কিছুই করার ছিল না। সিরাজউদ্দৌলা কখনো তার দেশের প্রজাদের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই বিশ্বাস ঘাতকতা করেননি। কখনো স্বেচ্ছায় স্বদেশকে বিকিয়ে দেননি। পলাশীর প্রান্তরে মর্মান্তিক নাট্যমঞ্চে একমাত্র তিনি ছিলেন মূল নায়ক। সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, বাংলার স্বাধীনতার শেষ প্রতীক।

২৩ জুন আমাদের জাতীয় জীবনে শুধু একটি কলঙ্কেরই দিন নয়, এই দিনটি শিক্ষণীয় দিবসও বটে। বাংলার ইতিহাসে এই পলাশী অধ্যায় যেমন ন্যক্কারজনক হৃদয়বিদারক ঘটনা, তেমনি আমাদের জাতীয় জীবনে এর মাশুল দিতে হয়েছে দীর্ঘ ২০০ বছর। পলাশীর শিক্ষা হলো স্বাধীনতা দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। দেশপ্রেম দেশের সবচেয়ে বড় আমানত। এই সত্যটা জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিককে আমাদের সর্বদাই উবলব্ধি করতে হবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে দেশকে ভালোবাসতে হবে।

মনে রাখতে হবে, পলাশীর পতন ছিলো একটি জাতিকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জিঞ্জিরে আবদ্ধ করার প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হবার পর বিদেশি ও দেশীয় বেনিয়াদের যোগসাজশে যে লুটপাটের রাজত্ব শুরু হয়, ইতিহাসে তা নজিরবিহীন। পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলার পতন কোনো একক ব্যক্তির পতন ছিলো না, এটি ছিলো একটি স্বাধীন জাতির পতন। মুর্শিদাবাদের পলাশীর প্রান্তরে কোনো যুদ্ধ হয়নি, হয়েছিলো যুদ্ধের নামে প্রহসন। পলাশীতে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়েছিলো শুধুমাত্র সিরাজ-উদ-দৌলার মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের সীমাহীন লোভ-দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন। পলাশীর বিপর্যয় তখনই ঘটেছিলো যখন অর্থনীতির ওপর থেকে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে গিয়েছিলো। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ও রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার কারণে দেশ পলাশীর দিকেই ধাবিত হচ্ছে।

২৩ জুন বার বার আমাদের এই সতর্কবাণী শুনিয়ে যায়, দেশের আভ্যন্তরিন শত্রুরা বর্হি শত্রুর চাইতে অনেক বেশি ভয়ংকর। আজ প্রশ্ন জাগে আমরা কি ২৩ জুনের কালো অধ্যায় থেকে কোনো শিক্ষা নিতে পেরেছি ? আমাদেরকে অর্জন করতে হবে জাতীয় ঐক্যের শক্তি। নিজেদের মধ্যে সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ ও ভেদাভেদকে ভুলে দেশের জন্য কাজ করতে হবে আমাদের। প্রিয় জন্মভূমিকে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের থেকে মুক্ত রাখতে হলে সৎ, যোগ্য ও আদর্শবাদী দেশপ্রেমিক নাগরিক গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। পলাশীর যুদ্ধের পতনের কারণগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।

[ লেখক : রাজনীতিক ও কলাম লেখক, মহাসচিব, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ও আহ্বায়ক, জাতীয় কৃষক-শ্রমিক মুক্তি আন্দোলন ]


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
https://slotbet.online/