গাজীপুরের পল্টি হাবীবের শত্রু হলেই আপনাকে খেতে হবে জুলাই আন্দোলনের মামলা
সন্ত্রাসীরা হয়রানি করে অস্ত্র ঠেকিয়ে, হাবিবের অস্ত্র ভুয়া মামলা সিন্ডিকেট; এ পর্যন্ত করেছেন, করিয়েছেন অন্তত ৩০০ মামলা
মামলা বাণিজ্যে অন্তত কোটি টাকা উড়িয়েছেন হাবিন, উদ্দেশ্য অবৈধ সম্পদের সুরক্ষা
পল্টি হাবীবকে মামলা বাণিজ্যে সহযোগিতা করেন তার গডফাদার দূর্নীতিবাজ ওসি আলম চাঁদ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল এবং ব্যবসা পাড়ায় এখন এক আতঙ্কের নাম হাবিবুর রহমান ওরফে পল্টি হাবিব। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী কিংবা বাড়িওয়ালা, কাউকে সহ্য না হলেই তার কপালে জুটছে জুলাই আন্দোলনের মতো স্পর্শকাতর মামলার খড়গ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে এই প্রতারক হাবিব গড়ে তুলেছেন এক ভয়ঙ্কর ভুয়া মামলা সিন্ডিকেট, যার মূল হাতিয়ার এখন ছাত্র-জনতার বিপ্লবের রক্তমাখা আন্দোলনকে পুঁজি করে নিজের ব্যক্তিগত শত্রুনিধন ও অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষা করা।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক লোমহর্ষক চিত্র। এ পর্যন্ত গাজীপুরসহ বিভিন্ন থানায় পল্টি হাবিব নিজে এবং তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে অন্তত তিনশ মিথ্যা ও সাজানো মামলা করিয়েছেন। এই বিশাল মামলা বাণিজ্যের পেছনে তিনি পানির মতো খরচ করেছেন অন্তত এক কোটি টাকা। তার এই বিপুল অর্থ খরচের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, বিগত আমলে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়ে তোলা প্রায় ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় রক্ষা করা। জমি দখল, কর ফাঁকি, পরকীয়া কেলেঙ্কারি কিংবা নিজ পিতাকে মানসিক নির্যাতন করে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার মতো অপরাধ ধামাচাপা দিতেই তিনি মামলাকে ব্যবসায় পরিণত করেছেন।
পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশ ছাড়া এই সিন্ডিকেট চলা অসম্ভব। আর এখানেই সামনে চলে আসেন পল্টি হাবিবের আসল গডফাদার—বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা ওসি আলম চাঁদ। গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় কর্মরত থাকার সময় আওয়ামী পন্থী পরিচয়ে ঘুষের সাম্রাজ্য গড়া এই ওসি আলম চাঁদ তার অবৈধভাবে অর্জিত কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন পল্টি হাবিবের রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এর বিনিময়ে হাবিবকে দিয়ে পুরো গাজীপুরে মামলা বাণিজ্য পরিচালনা করাতেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। বর্তমানে দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদরদপ্তরে লিখিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও চতুর ওসি আলম চাঁদ এখন গিরগিটির মতো রঙ বদলে বিএনপিপন্থী সেজে আবারও থানার ওসি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন।
সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীরা যখনই হাবিবের অনিয়মের প্রতিবাদ করেছেন, তখনই সন্ত্রাসীদের দিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের জিম্মি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নিজ পিতাকে কৌশলে নির্যাতন করে মেরে ফেলা, বোনের সম্পদ আত্মসাৎ করা এবং ক্ষমতার লোভে রাতারাতি যুবলীগ থেকে বিএনপি সেজে যাওয়া এই পল্টি হাবিব এবং তার গডফাদার ওসি আলম চাঁদের যৌথ সিন্ডিকেট এখন গাজীপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক হুমকি।
জুলাই অভ্যুত্থানের পবিত্র চেতনাকে যারা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল ও মামলা বাণিজ্যের হাতিয়ার বানিয়েছে, সেই পল্টি হাবিব ও তার গডফাদার ওসি আলম চাঁদকে অবিলম্বে আইনের কঠোর কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানিয়েছে গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীরা।
https://slotbet.online/