• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
কক্সবাজারে বাসে ১৮ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ৩ নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় মনে রেখো বাংলাদেশ! সিলেটের চৌকিদেখিতে কবি আবুল বশর আনসারীর স্মৃতিফলক পরিদর্শনে চিত্রনায়ক হেলাল খান টেকনাফ নয়াপাড়া ক্যাম্পে ইট-বালু-সিমেন্ট বিক্রি, রোহিঙ্গার কারাদণ্ড তাড়াশে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান, জব্দ ২ এক্সকাভেটর ও ডাম্প ট্রাক রাজস্ব ফাঁকির সংবাদ প্রকাশের জেরে মামলা, জামিন পেলেন দুই সম্পাদক টেকনাফে রাস্তা দখল করে দোকান, রোহিঙ্গা যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড টেকনাফে সিএনজির ভিতরে ২০ হাজার ইয়াবা, চালক আটক উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির দুই অভিযানে ১ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার টেকনাফে যৌথ অভিযানে মানবপাচারকারী কবিরসহ গ্রেপ্তার ১৩ রায়গঞ্জে মৎস্য প্রকল্পের খুঁটি-তার সরানোর অভিযোগ, তদন্তে জেলা মৎস্য বিভাগ শীতের আমেজ ছড়াতেই খেজুরের রসের আশায় গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত তাড়াশের গাছিরা সেন্টমার্টিনে কোস্ট গার্ডের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসা পেলেন ২৩২ জন ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের ডাকাতি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার বাঁশখালীতে রাতের আঁধারে বসতঘর দখল ও লুটপাট: সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিককে হেনস্থা ও অবরুদ্ধ করার অভিযোগ রায়গঞ্জে অটোচালক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশের গরু চুরি মামলা: রামেশ্বরগাতী থেকে গ্রেপ্তার ৩৮ বছর বয়সী ইব্রাহিম তাড়াশে কবরস্থানের বিদ্যুতের তার চুরি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাউজান গর্জনিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে( সুবর্ণ জয়ন্তীসফলকল্পে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত পূর্ব আকাশ কুড়ি যুব সংঘ বনাম নব উন্নয়ন যুব ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত এক বিশাল হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর ছাতকের জাউয়াবাজারে জাহাঙ্গীরকে ঘিরে নানা অভিযোগ উখিয়ায় পৃথক অভিযানে ২০ হাজার ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক চট্টগ্রামের প্রধান সড়কে পিঁপড়ার সারির মতো অটোরিকশা, রাউজান–ফটিকছড়ি–হাটহাজারীতে দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ টেকনাফে চাকমারকুল ক্যাম্পে চুরি মামলায় তিন রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার, ব্যাটারি উদ্ধার টেকনাফের শাহপরীতে কোস্ট গার্ডের অভিযান, ৫০ হাজার ইয়াবা জব্দ চলনবিল মহিষলুটিতে শুঁটকির বাজারে চড়া দাম, লোকসানে  ব্যবসায়ীরা টেকনাফে যৌথ অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ পলাতক আসামি গ্রেপ্তার উখিয়ায় ২০ হাজার ইয়াবাসহ যুবক আটক টেকনাফ নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে অভিযান: মামলার পলাতক রোহিঙ্গা আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন-উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্তি  তাড়াশ পৌরসভার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন শুভেচ্ছান্তে মোছাঃ ইতি সরকার স্বামী: মরহুম মিজানুর রহমান বারী সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কাগইল ইউনিয়ন পরিষদ, গাবতলী, বগুড়া। টেকনাফে ৩২ হারানো মোবাইল উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে এসএসসি ’৯১ বন্ধুদের মহামিলন মেলা সফল করতে অ্যাডমিন প্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা টেকনাফে ১০০ জেলেকে বিজিবির খাদ্য সহায়তা সাংবাদিক হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে তাহিরপুরে মানববন্ধন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি। কক্সবাজারে এসআরবি-১৫’র অভিযানে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৪ তেজগাঁও বিভাগে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৭৬ ভিনি রিয়ালে খেলে যথেষ্ট সম্মান পাচ্ছে না: মরিনিও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উখিয়ার দারোগা বাজারের প্রধান পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন এমপি শাহজাহান চৌধুরী টাঙ্গাইলে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত তুলি এমপির ঘনিষ্ঠ শ্যুটার লেলিন গ্রেপ্তার দুর্গাপূজায় উপকূলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কোস্ট গার্ড উখিয়ায় অপহরণ মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিনা অনুমতিতে অবস্থান, যুবকের এক মাসের কারাদণ্ড ১৯ মামলার তাড়াশের কুখ্যাত গরু চোর লিটন শেখ আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার বাঁশখালীতে ৩৯ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১: নেপথ্যে জড়িত অন্য সহযোগীকে মামলা টেকনাফে অস্ত্রসহ ‘করিম ডাকাত’ আটক, অপরাধীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান টেকনাফে ১৬ এপিবিএনের বিশেষ যৌথ অভিযান, আটক ১৭ শেখ রাসেল দিবস: আলোকময় শৈশব ও কালজয়ী মানবিক চেতনা** ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার মামলার মূল হোতা সলিম উল্লাহ গ্রেপ্তার উখিয়ার হুমায়ুন হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি মরিচ্যায় গ্রেপ্তার উখিয়ায় এক লাখ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক তাড়াশে বেশি দামে সার বিক্রি, ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবিতে বকশীগঞ্জে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল। টেকনাফে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক টেকনাফে নিখোঁজ ১২ বছরের রোহিঙ্গা শিশু উদ্ধার টেকনাফে জননিরাপত্তায় নতুন সেনা ক্যাম্প রঙ্গিখালী-বড় ডেইল এলাকায় প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন রাজশাহীতে জমি ও দোকানঘর দখলচেষ্টার অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন তাড়াশে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে  প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তায় পুলিশ চাকমারকুলে নিখোঁজ রোহিঙ্গা কিশোর ও চট্টগ্রামের কিশোরী উদ্ধার কক্সবাজারে রিমন হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার: ৪৯ মণ্ডপে ৩০৬ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন সিরাজগঞ্জ তাড়াশে বাড়ির টয়লেটের পেছন থেকে দুইটি গা-ঁজার গাছ উদ্ধার উখিয়ায় ৫০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছন সেভেন রিংস সিমেন্টের উপদেষ্টা – এরশাদ আলী আজাদ। তাড়াশে ৭০ বস্তা সার জব্দ, ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের ২৩ সদস্যের কার্যকরী পরিষদ ঘোষণা শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে মাঠে জামালপুর ৩৫ বিজিবির ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, মন্ডপ পরিদর্শন! সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৭০ বস্তা সার জব্দ, ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় টেকনাফে বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি উখিয়ায় ৭০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস: সভ্যতার মূল কারিগরদের অবদানের স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শুরু নরমাল ডেলিভারিসেবা স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ প্রসবসেবার সুযোগ, কমবে প্রসূতিদের ভোগান্তি; বকশীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মার্কিন জাল ডলারসহ দুই যুবক আটক। বকশীগঞ্জে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ। প্রবাসীদের রক্তঘামে গড়ে ওঠা সমৃদ্ধি: স্বীকৃতি ও সুরক্ষার অধিকার লন্ডনে প্রবাসীদের মিলনমেলা: বিমান ভাড়া হ্রাস ও যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত নিয়ে আলোচনা, সিদ্ধান্ত আসতে পারে কয়েক দিনের মধ্যে টেকনাফে দুই ওয়ারেন্টে আসামি গ্রেপ্তার তাড়াশে সংবাদ প্রকাশের পর চিকিৎসার ব্যবস্থা হচ্ছে তানজিলের বিশ্বম্ভরপুরে ওয়ার্ড সভা ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধে সচেতনতামূলক সভানয় ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ নানা দাবি, পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা ও ৫৮৮ নারীর মাঝে চাল বিতরণ মীরজাফর, মোশতাকের পর ড. ইউনূস: ঘৃণাভরে উচ্চারিত নামের তালিকায় নতুন সংযোজন সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখুন: একটি সুন্দর ভবিষ্যতের পূর্বশর্ত মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত: অসুস্থ তানজিমের পাশে জিকেএস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর শিক্ষার আলো ছড়াতে নানিয়ারচর জোনের মানবিক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ টেকনাফের তিন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক অভিযান, সাজা পেলেন ৪ জন উখিয়ায় ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, পিস্তল-গুলি ও ডুবন্ত নৌকা জব্দ; আটক ৩ কক্সবাজারে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস প্রশাসনের মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে বেহেলীতে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন সাদরুল আমীন। বিশ্বম্ভরপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, নির্বাচিত দুই ইউনিয়নের ৬ ওয়ার্ড ফতেপুর ও সলুকাবাদ ইউনিয়নে কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্ব পাচ্ছে সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই জাতীয় শ্রমিক লীগের ৫৭ বছর: মুক্তিযুদ্ধের গৌরব, শ্রমিকের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম তাড়াশে তানজিলের পাশে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা টেকনাফে ইভটিজিংয়ের দায়ে রোহিঙ্গা যুবকের ২ মাসের কারাদণ্ড আমাদের নিখোঁজ শিশুরা: সংখ্যার বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি – নিকোলাস বিশ্বাস কক্সবাজারে ৩ লাখ ইয়াবাসহ সিএনজি জব্দ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা: নির্বাচন অনিশ্চয়তা নতুন শক্তির উত্থান ?

দৈনিক প্রতিবাদ / ১৭৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫

আওরঙ্গজেব কামাল : জুলাই-পরবর্তী সময়কে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর পুনর্গঠন, কিন্তু বাস্তবে জাতীয় রাজনীতি নতুন করে অনিশ্চয়তার ঘূর্ণিতে পড়েছে। রাজপথ থেকে প্রশাসন, গণমাধ্যম থেকে সামাজিক পরিমণ্ডল—সব ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব, দমনচর্চা, ফ্যাকশনাল ইউনিয়ন, মাদকচক্র, অপপ্রচার এবং নির্বাচনী ধোঁয়াশা। প্রতিনিয়ত কারণে অকারনে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার যেন নিয়ন্ত্রণহীন।

গণঅভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি উচ্চারিত হয়েছিল, স্বৈরাশ শাসন চিরতরে নিপাতের অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। সমাজের সকল বৈষম্য দূর করার দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিল। সেটা রূপ পেয়েছে স্বার্থকেন্দ্রিক গোষ্ঠীর দখলদারিত্বে, আর বিভিন্ন মহলে দমনের আতঙ্ক ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা নতুন রূপ নিচ্ছে। বর্তমান অন্তবর্তী কালীন সরকার সাধ্যমত চেষ্টা করছে নিয়ন্ত্রণ করার কিন্তু সর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে সেটা কখনো বাস্তবায়ন হবে না। জুলাই সনদ নিয়ে এত তালবাহানা। মানে জুলাই শহীদদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করা। প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক পরস্পর বিরোধীর বক্তব্যে জনমনে নানা প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উচ্চপর্যায় থেকে এখনো জোর দিয়ে বলছে যে স্বচ্ছ পরিবেশ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও জনআস্থার নিশ্চয়তা ছাড়া তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বৈধ হিসেবে বিবেচনা করবে না। পর্যবেক্ষণভিত্তিক অংশ গ্রহণ এবং নির্দলীয় তদারকির দাবি তাদের মূল বক্তব্যে থেকে গেছে। দলটির বহু নেতা মনে করেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে ফেরার জন্য এখনও স্পষ্ট রূপরেখা ও বাস্তবিক সহায়তা দরকার। বিএনপির দাবি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দিতে হবে এবং সেটা নিরপেক্ষতা হবে।
কিন্তু নির্বাচন কমিশনের উপর নিরপেক্ষতার বিষয়ে এখনো সঠিক আস্থা রাখতে পারছে না দলটি। যদিও বিএনপি এখনো তাদের প্রার্থীর চূড়ান্ত করতে পারিনি। তাদের দাবি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘসময় নিষ্ক্রিয় থাকার পর নতুন কাঠামো ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতার মধ্য দিয়ে জনসম্পৃক্ততা ফিরে পেতে চাইছে। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র শিবিরের জয় তাদের একটু বড় অর্জন। শীর্ষ নেতৃত্বের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ এবং রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা ছাড়া কোনো নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হবে না। তারা নিজেদের অবস্থানকে ‘জনরায় নির্ভর প্রচেষ্টা’ হিসেবে তুলে ধরছে এবং গ্রামীণভিত্তিক সংগঠনে আবারও গতি আনছে। ইতিমধ্যে তারা ৩০০ আসনের প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন। তবে জামাত নেতৃবৃন্দ হয়তো শরিকদের কিছু আসন ছেড়ে দিতে পারে। এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন শক্তি হিসেবে এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি) নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। তাদের নেতৃত্ব দাবি করছে, জনগণ এখন পুরনো দুই ধারার বাইরে বিকল্প চায়, এবং তারা তরুণ সমাজ, বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা স্বতন্ত্রভাবে বা সমঝোতার জোটে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রেখেছে। তারা জামাতের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে একই মঞ্চে অনেক বার তারা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে জামাত ও তার সমমনা দলগুলি মাঠে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচন হবে কেমনভাবে—নিয়ন্ত্রিত নাকি স্বাভাবিক? এই প্রশ্ন এখন পুরো দেশে। নির্বাচন কমিশন এখনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ উপস্থাপন করতে পারেনি। এছাড়া নির্বাচনের প্রজেটিং অফিসারদের নিয়ে নানাবিধ মতামত রয়েছে জনমনে।
অনেকের মতে, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক প্রভাব, নিরাপত্তা কাঠামো এবং রাজনৈতিক দরকষাকষির ওপর নির্ভর করবে ভোটের চরিত্র। কেউ কেউ মনে করছেন “পিয়ার প্রভাবিত ভোটিং”—অর্থাৎ দলীয়-গোষ্ঠীচাপ ও স্থানীয় প্রভাব নির্ভর সিদ্ধান্ত—ভবিষ্যৎ ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে। তরুণ সমাজ এখন সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। পছন্দের নেতৃত্ব খুঁজে না পাওয়া, তাদের চিন্তা-চেতনা মনে হচ্ছে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে মিলাতে পারছেন না। তারা যে জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান করেছিল সেটা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সে বিষয়ে অনেকের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। বর্তমানে
উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকট, বিদেশমুখী মানসিকতা এবং সামাজিক বঞ্চনা তাদের রাজনৈতিক অংশ গ্রহণে হতাশা তৈরি করেছে। বন্ধু মহল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তিগত সুবিধাবাদী ধারণার ওপর ভিত্তি করে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা ভোটের মানসিকতা পাল্টে দিতে পারে।
রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অস্থির ব্যবধানে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নতুনভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে। ইয়াবা, আইস, ফেন্সিডিলসহ নানা মাদকের প্রবাহ শহর ও গ্রামে আবার বেড়েছে। স্থানীয় দখলদার, টোলবাজ ও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় হয়েছে। রিকশা ভ্যান এমন কি সুইপারের মতন কাজও চলছে অর্থের লেনদেন। এছাড়া প্রশাসন অনেকক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় বা দলনির্ভর ভূমিকা রাখছে, ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। থানায় যে দেখা যায় এখনো পুলিশ পূর্বে অবৈধ পন্থা গুলো ধরে রেখেছে। বর্তমানে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের ওপরও বেড়েছে নানা চাপ। অনলাইন অপপ্রচার, চরিত্রহনন, ভুয়া তথ্যপ্রবাহ, মামলা, হুমকি ও ডিজিটাল আক্রমণের ফলে সত্যভিত্তিক গণমাধ্যম সংকটে পড়েছে। কিছু প্রভাবশালী মিডিয়া রাজনৈতিক ছায়ায় থেকে ভুল বার্তা প্রচার করছে। বারবার অন্তবর্তী দিনকালীন সরকারকে বেকায়দা ফেলার চেষ্টা করছেন।অন্যদিকে স্বাধীন সাংবাদিকেরা হুমকি, নোটিশ বা ভয় দেখানোর মুখে পড়ছেন বারবার। এর ফলে মতপ্রকাশ ও তথ্যপ্রবাহ উভয়ই নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বন্দী হয়ে যাচ্ছে। জুলাই-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দমননীতি, গ্রেফতার আতঙ্ক এবং নিখোঁজ হওয়ার ভয় আবারও আলোচনায় এসেছে। অনেকেই বলছে, ভিন্নমতের কণ্ঠ বা নাগরিক আন্দোলনকে দুর্বল করতে গোপন নজরদারি ও হাইব্রিড প্রভাব ব্যবস্থার আশ্রয় নিচ্ছে ক্ষমতার বিভিন্ন অংশ। এতে রাজনৈতিক সংস্কারের পরিবর্তে দমন ও ভয়টাই কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠছে। সব মিলিয়ে দেশে এখন তিনটি সমান্তরাল বাস্তবতা স্পষ্ট হচ্ছে: ক্ষমতা দখল ও পুনর্বিন্যাসের খেলা, অপরাধ-অর্থনীতি-দমনচক্রের বিস্তার, এবং অসন্তুষ্ট তরুণসমাজের বিকল্পমুখী মানসিকতা। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নিজেদের অবস্থান দৃশ্যমান করতে চাইছে বটে, কিন্তু স্বচ্ছ নির্বাচন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত না হলে ভোটের স্বীকৃতি ও ফলাফল নিয়ে জনমনে সংশয় থেকেই যাবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তখনই টিকে থাকে, যখন জনগণের মতপ্রকাশ দমন করা হয় না, সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে থামানো হয় না এবং তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি জুলাইয়ের পর উচ্চারিত হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে এবং কারা সেটি কার্যকর করবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেশের জনসাধারণের মনে। জনসাধারণের আলোচনায় এখন নতুন কোন শক্তির সম্ভাবনাই রয়েছে কিন্তু দেশ। আর সেটা বাস্তবায়িত হলে দেশে কি কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হবে কিনা।

 

লেখক ও গবেষক:
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি, ঢাকা প্রেসক্লাব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
https://slotbet.online/