সরকার টুটুল, তাড়াশ উপজেলা প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় দলিল জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় মিজানুর রহমান (৫০) নামের এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে তাড়াশ থানা পুলিশ। গত সোমবার সকালে তাড়াশ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। গ্রেফতারকৃত মিজানুর রহমান উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের হেমনগড়
গ্রামের মৃত মেহের উদ্দিনের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ থানাধীন কাটাবাড়ী মৌজার আরএস ১১৪৩ নম্বর খতিয়ানের আরএস ১২৭৯ দাগে ৮৯ শতাংশ, ১৪০২ দাগে ১৫ শতাংশ এবং ৫২৫১ দাগে ২০ শতাংশ—সব মিলিয়ে মোট ১২৪ শতাংশ সম্পত্তির মূল মালিক ছিলেন ১ ও ২ নম্বর বিবাদীর পিতা মৃত মেহের উদ্দিন এবং একই মৌজার আরএস ১২৮৭ নম্বর খতিয়ানের ১৪০২ দাগের ১৫ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন বিবাদীদের মাতা সুফিয়া খাতুন গং।
মেহের উদ্দিন ও সুফিয়া খাতুন জীবিত থাকাকালীন এবং তাদের উত্তরাধিকারীরা সম্পত্তি ভোগদখলরত অবস্থায় ১ ও ২ নম্বর বিবাদী উক্ত তফসিলভুক্ত সম্পত্তি বিক্রির ঘোষণা দেন। এই ঘোষণায় ভুক্তভোগীর চাচা (বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী) উপযুক্ত মূল্যের বিনিময়ে ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি তাড়াশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ৮৩ নম্বর রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমিগুলো ক্রয় করেন। এরপর থেকেই তিনি বৈধভাবে নামজারি (মিউটেশন)
সম্পন্ন করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ এবং বাদীর মাধ্যমে জমিতে ফসল উৎপাদন করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
ভুক্তভোগী সগুনা ইউনিয়নের ধামাইচ গ্রামের জহুরুল ইসলাম জুয়েলের ছেলে শাহরিয়ার জয় জুয়েল অভিযোগ করেন, নালিশি সম্পত্তিটি বিবাদীদের বাড়ির নিকটবর্তী হওয়ায় মিজানুর রহমানসহ অন্য বিবাদীরা অসৎ উদ্দেশ্যে ও অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। এরই অংশ হিসেবে তারা ৫৫৭
নম্বর দলিলের বিষয়ে প্রথমে ১৯৮৬ সালের ১৭ জানুয়ারি আদালতে একটি ভুয়া দলিল প্রদর্শন করে দেখান। কিন্তু সেদিন শুক্রবার হওয়ায় পরে তারা বুঝতে পেরে কৌশল পরিবর্তন করে একই দলিলের ১৭ তারিখকে ২৭ বানিয়ে পিবিআইয়ের কাছে ওই ভুয়া ও কথিত ফটোকপি দলিলটি জমা দেন। উল্লেখ্য উক্ত ভুয়া দলিলের টিপ সই সিরিয়াল নাম্বারেও মিল নাই বলে পিবিআই রিপোর্টে জানা যায়।
অনুসন্ধান করে জানা যায়, ওই কথিত ফটোকপি দলিলে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঠ্যাঙ্গা পাকুরিয়া মৌজার ৮৫০ নম্বর দাগের কথা উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে ওই মৌজায় এমন কোনো দাগের অস্তিত্বই নেই। এ ছাড়া কথিত দলিলের রেজিস্ট্রি তারিখের পরে স্ট্যাম্প ক্রয় করা হয়েছে, যা দলিলটি জাল মর্মে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট এই দলিলের ভিত্তিতে বিবাদীরা সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি মামলা (এমআর-৮২) দায়ের করেন। ওই জাল দলিলের ফটোকপি দেখিয়ে তারা জমি নিজেদের দাবি করে ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি এবং জোরপূর্বক নালিশি সম্পত্তি বেদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
পরবর্তীতে এই হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড ও দলিল জালিয়াতির ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের হলে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাড়াশ থানা পুলিশ গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে ১ নম্বর আসামি মিজানুর রহমান ওরফে মোজাম্মেলকে (৫০) গ্রেফতার করে। তবে ২ নম্বর আসামি মো. ইমরান হোসেন আপেল (৪১) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
এ বিষয়ে এএসআই উত্তম কুমার বলেন, অভিযান চালিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মিজানুর রহমানকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
https://slotbet.online/