বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:-
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ২ নম্বর সাধনপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রাম আদালতের নির্দেশ ও স্থানীয় সালিশ-বৈঠকের তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে একটি পরিবারের বসতঘর দখল এবং আসবাবপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় এক পেশাদার সংবাদকর্মীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা, গালিগালাজ ও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের অভিযোগপত্র ও আইনি নথি সূত্রে জানা যায়, সাধনপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিচিন্না পাড়ার বাসিন্দা আহমদ রশীদ (প্রকাশ মিঞা) ও তার ভাই মো. নাজিম উদ্দীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ২০২৪
সালের ২১ এপ্রিল গ্রাম আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ২০২৪ সালের ৩০ মে গ্রাম আদালত বাদীর দখলীয় ভূমিতে বিবাদীর প্রাপ্ত অংশ ছেড়ে দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি আপোষ চুক্তিনামাও স্বাক্ষরিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে উক্ত বসতভিটা ক্রয়ের অহেতুক অজুহাত দেখিয়ে সময় ক্ষেপণ করে আসছিল। আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একজন সার্ভেয়ার (আমিন) নিযুক্ত করে জায়গাটি পরিমাপের
মাধ্যমে নিজ নিজ অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার কথা নির্ধারিত ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত আইনি সমাধানের আগেই বিবাদী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই দখলের ঘটনা ঘটায়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে আহমদ রশীদ পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের নতুন তৈরি ঘরে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে বিবাদী পক্ষ অনধিকার প্রবেশ করে পুরোনো ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র ও মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘরের ভেতর টিনের বেড়া নির্মাণ ও দরজা আটকে দিয়ে জোরপূর্বক ঘরটি পুরোপুরি দখল করে নেয়। ঘটনার খবর পেয়ে ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শনে যান ‘দৈনিক
বিজয় বাংলাদেশ’-এর স্টাফ রিপোর্টার ও ‘আলোকিত বাঁশখালী’-এর নির্বাহী সম্পাদক আনিছুর রহমান। ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য গ্রহণ শেষে বিবাদী মো. নাজিম উদ্দীন (প্রকাশ নাজু) ও তার ছেলে মিশকাতুল ইসলামের বক্তব্য নিতে গেলে তারা উক্ত সংবাদকর্মীর ওপর চড়াও হন। নাজিম উদ্দিন নাজু এবং তার ছেলে ও ভাইপো
তারা নিজেদের ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সমিতির নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, “আপনি কার পারমিশন নিয়ে তথ্য নিতে এসেছেন? ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে. এম. সালাহউদ্দীন কামালের পারমিশন নিয়ে আসেন, তারপর তথ্য দেব। উপস্থিত স্থানীয়দের সামনেই উক্ত সাংবাদিককে লক্ষ্য করে চরম অশালীন
মন্তব্য করেন, মারধরের চেষ্টা চালান এবং তাকে জোরপূর্বক দাঁড় করিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এদিকে, ভুক্তভোগী আহমদ রশীদের একমাত্র পুত্র সন্তান মো. ফারুককে প্রকাশ্যে রাস্তাঘাটে গুম ও খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তাদের সন্তানদের অনেক জনবল রয়েছে; ফারুককে মেরে ফেললে সামান্য কিছু টাকা ক্ষতিপূরণ দিলেই চলবে। বর্তমানে চরম প্রাণভয়ে মো. ফারুক তার পরিবার ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ওই নতুন তৈরি ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন, যার দরজা-জানালাও এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। পুরোনো ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র হারিয়ে এবং প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ে পরিবারটি এখন চরম অসহায় ও আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
এই বিষয়ে সাধনপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নন্দন দে বলেন, আগামী ২৫ অক্টোবর বসতভিটা ও বিরোধপূর্ণ জমির পরিমাপের বিষয়ে সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে সার্ভেয়ার নিযুক্ত করে জমি পরিমাপের সময় তিনি উপস্থিত থাকবেন। বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল এবং তারা সম্মতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু এর আগেই পরিকল্পিতভাবে লুটপাট ও ঘরের ভেতরে টিনের বেড়া দিয়ে জবরদখল করা হয়েছে। বাঁশখালী থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাতের আধাঁরে চুরি লুটপাট ও পরিকল্পিত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় ও কথিত ক্ষমতার দাপট
দেখানো অভিযুক্তরাই পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করা এবং জোরপূর্বক বসতঘর দখলের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজ এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং বসতভিটা ঘর উদ্ধার ভুক্তভোগীদের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করছেন।
https://slotbet.online/