তাড়াশ সংবাদদাতা শরীফে আহমেদ :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর নির্দিষ্ট লগ্ন ও শাস্ত্রীয় বিধান মেনে আজ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলাজুড়ে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। দেশব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশের ধারাবাহিকতায় তাড়াশেও আজ দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী প্রতিমাকে বিদায় জানান ভক্তরা।
জামাই বরণ ও সামাজিক মেলবন্ধন: তাড়াশসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দশমীর দিন জামাই ও নিকট আত্মীয়-স্বজনদের শ্বশুরবাড়িতে আমন্ত্রণ জানানোর চমৎকার রেওয়াজ রয়েছে। কে কত বড় ও ভালো মাছ কিনে শ্বশুরবাড়িতে বা প্রিয়জনদের কাছে নিয়ে যাবেন, তা নিয়ে চলে এক মধুর প্রতিযোগিতা। বড় সাইজের রুই, কাতলা, চিতল কিংবা বড় ইলিশ কিনতে সকাল থেকেই মাছের বাজারগুলোতে তিল ধরাণের ঠাঁই থাকে না।
বিজয়া দশমীর নির্ধারিত লগ্ন অনুযায়ী (২১ অক্টোবর) সকাল থেকেই তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে দর্পণ বিসর্জন ও দেবী ঘট নাড়ানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
দুপুরের পর থেকে তাড়াশ উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের মণ্ডপগুলো থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্য দিয়ে প্রতিমাগুলো নির্দিষ্ট বিসর্জন ঘাটে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
শোভাযাত্রার রুট ও স্থান: তাড়াশ পৌরসভা ও আশপাশের এলাকার মণ্ডপগুলোর প্রতিমা বিসর্জন শোভাযাত্রা মণ্ডপ থেকে বের হয়ে তাড়াশের প্রধান সড়ক ও মূল বাজার প্রদক্ষিণ করে। পরে নির্ধারিত নদী, পুকুর বা জলাশয়ে ভক্তদের সমবেত জয়ধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়।
উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন শোভাযাত্রা ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং মণ্ডপ পরিচালনা কমিটির স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক তৎপর ছিল। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও বিসর্জন ঘাটগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এবারের বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে।
শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৬ দিনব্যাপী সর্ববৃহৎ এই শারদীয় উৎসব। আজ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে পাড়ি জমালেও রেখে যাচ্ছেন আগামী এক বছরের অটুট সম্প্রীতি ও উৎসবের মধুর স্মৃতি। মণ্ডপের বিষাদ আর বাজারের আনন্দমুখর পরিবেশ মিলে তাড়াশে আজ এক অনন্য চিত্র বিরাজ করছে।
https://slotbet.online/