বিশেষ প্রতিনিধি :
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ধারাবাহিক হামলা এবং জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজ দেশে ফিরতে পারছেন না শাহজামান খান নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি। বিদেশে দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরেও শান্তি মেলেনি, উল্টো বিগত সরকারের আমলের নিপীড়ন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে ক্যাডারদের হুমকির মুখে পড়ে তাকে পুনরায় দেশত্যাগে বাধ্য হতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহজামান খান অতীতে ছাত্রাবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও আপসকামিতার কারণে দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময় আগে দলটির সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন। কিন্তু ২০০৭ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের হামলা, মিথ্যা মামলা এবং হয়রানির শিকার হয়ে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং দীর্ঘদিন অ্যাঙ্গোলায় প্রবাসজীবন কাটান।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ফিরে ঢাকায় ব্যবসা শুরু করলেও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও সমসাময়িক বিষয়ে লেখালেখির কারণে তিনি আবারও আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়েন। সে সময় তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী ও পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা, বাড়িতে ভাঙচুর এবং তাঁকে নিজে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি বাধ্য হয়ে ২০১৬ সালের মে মাসের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং অ্যাসাইলামের আবেদন করেন।
এদিকে বর্তমানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেও শাহজামান খানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে প্রকাশ, অতীতে বিএনপি ছেড়ে দেওয়া এবং দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও কার্যক্রমের কড়া সমালোচনা করার কারণে বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের একাংশ এবং দলের কিছু অতিউৎসাহী কর্মী তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে টার্গেট করেছে। ফলে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণেও কট্টরপন্থীদের পক্ষ থেকে তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর লাগাতার হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দুই পক্ষের রোষানলে পড়ার বাস্তব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে শাহজামান খানের পক্ষে এই মুহূর্তে দেশে ফিরে যাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
https://slotbet.online/