• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
জুলাই বিপ্লবের ভাঙা আয়না: বিভেদের দায় কার?- মোঃ সেলিম উদ্দীন । বরিশালে ‘বোমা বিস্ফোরণ’: রশিতে বাঁধা চিপসের প্যাকেট নিতে গিয়ে বিস্ফোরণ সৌদি শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সাথে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। তাড়াশে পৃথম ঘটনায় দুই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার “দি ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল” ট্রাস্টি সিলেট-২ আসনের এমপি লুনা’র সা‌থে বৃটেনে সাক্ষাৎ বিনিময় মানবিক সংগঠন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্য শাখা’র কমিটি গঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের হরিপুর উপজেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন । বৈধ নামজারি উপেক্ষা করে ২০১৭ সালের দলিল: জসিমউদ্দিন খন্দকারদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ রাজশাহী দুর্গাপুর এসিল্যান্ড কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ। আগস্টের প্রথম প্রহরে কাজীপুরে শোক মিছিল রিয়াদে বাথাস্থ প্রবাসী সেবা কেন্দ্রে প্রবাসী সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত; আল-ইযহার আইডিয়াল মাদ্রাসায় মেধা বিকাশ, কুরআন বিতরণ ও ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠান ২০২৬ অনুষ্ঠিত। এমপি সেলিম রেজার স্কুল পরিদর্শনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, কাজিপুরে চাঞ্চল্য বরিশাল সিভিল সার্জনকে অপসারণে ২৪ ঘণ্টার ‘আল্টিমেটাম’ সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হাটহাজারীতে চলন্ত প্রাইভেট কারে গুলি বর্ষণ, অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন সাংবাদিক রনি তাড়াশে নিজ বাড়িতে না থাকায় বসতভিটা দখল ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে বেস্ট অ্যাডিশনাল এসপি অ্যাওয়ার্ড পেলেন রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাঁশখালীতে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে চলছে এনজিওর কিস্তি আদায়: চরম বিপাকে বন্যা দুর্গতরা যুক্তরাজ্যে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আয়োজন ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে বানারীপাড়ায় উত্তেজনা, থানার সামনে বিক্ষোভ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালতে বিচারাধীন দখল পুনরুদ্ধারের মামলা: ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় ভুক্তভোগী সিরাজগঞ্জে যৌন হয়রানি মামলার আসামি শিক্ষকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন লন্ড‌নে সিলেট শাহজালাল হাউজিং এস্টেটস প্রবাসী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যো‌গে সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির কেন্দ্রীয় উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হলেন বাঁশখালীর আনিছুর রহমান যুক্তরাজ্যে “ইউকে ম্যানেজমেন্ট কলেজ” উচ্চশিক্ষায় ১০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠিত রাউজানের পশ্চিম ডাবুয়ায় হাদা গাজী তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ সড়কের বেহাল দশা, সংস্কারের দাবি এলাকা বাসির তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি তাশিক হক ওসমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে টিন ও অর্থ বিতরণ ছাতকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঝুঁকিতে বেরিবাঁধ, মসজিদ, বসতভিটা ও সড়ক-দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি আলহাজ্ব মোহাম্মদ নুরুল হকের জমকালো আয়োজনে তাড়াশে আদিবাসী সিং প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সলঙ্গায় আরাফাত রহমান কোকো ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন তাড়াশে জমকালো আয়োজনে আদিবাসী সিং প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত তাড়াশে জমকালো আয়োজনে আদিবাসী সিং প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত রাউজানের হলদিয়ায় বন্যাদুর্গত শতাধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্টের ত্রাণ পেল ৩ হাজার পরিবার অধ্যক্ষ সেলীম রেজার বরখাস্তের প্রতিবাদে মানববন্ধনের বক্তব্য একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর বালিয়াডাঙ্গীতে ৫৫ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক সৌদিআরব প্রবাসী বাংলাদেশী গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে রাষ্ট্রদূত দেলোয়ার হোসেন এর সমসাময়িক বিষয়ে মতবিনিময় সভা; ব্যাংক কর্মকর্তার ছেলে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন। চাচাদের প্রতারণার শিকার এতিম দুই ভাতিজা, দখল পুনরুদ্ধারের মামলা চলমান; ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা তাড়াশে দিনব্যাপী ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে  সমাজসেবক আলহাজ্ব আব্দুল গনি শেখের ওপর মব সৃষ্টির ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ ঢাকা প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দের শাজাহানপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ পূর্বাভাসভিত্তিক পদক্ষেপ: ঝুঁকিপূর্ণ ১০০ পরিবারকে অর্থ সহায়তা পানি ও ফুটো টিনের নিচেই দায়িত্ব পালন, দুর্ভোগে সাধনপুর পোড়াবাড়ি পুলিশ ক্যাম্প মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশন সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় পরিষদের ৩১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন অছাত্রদের দখলে ডাইনিং, মানহীন খাবারে ভুগছেন শিক্ষার্থীরা বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ওয়াসিম মৃধার অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার, পূর্বের পদে পুনর্বহাল বানারীপাড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদারের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার তাড়াশে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটে আগুন, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা দুই পরিবার সরকারি বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে “ডাস্টবিন দাঁড়িয়ে, ময়লা নিচেই!” তাড়াশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে অবুঝ মনের ব্যাকুল কথা—- মোঃ সেলিম উদ্দীন যুক্তরাজ্য প্রবাসী নিজামুদ্দীনের পরিবারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, ‎নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি। ডেলিভারি ভ্যান ছিনতাই থেকে হাবে হামলা নানিয়ারচরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আর্থিক সহায়তা নিয়ে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত বাসনা চাকমার পাশে দাঁড়িয়েছে রূপগঞ্জে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা কহিনুর বহিষ্কার বাঁশখালীর সাধনপুর ৮নং ওয়ার্ডে জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান আজিমুল হক পূ্র্বাচলে বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প, পূর্বাচল এর উদ্বোধন করলেন আইজিপি আলীগ্রামকে বুড়িগঞ্জে রাখার দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ এলাকাবাসী বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে বিভাগীয় কমিশনারের পরিদর্শন বারবার নির্বাচিত উমারপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মন্ডল আমাদের মাঝে আর নেই, শোকে স্তব্ধ চৌহালী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল: সীতাকুণ্ডে সড়ক অবরোধে অচলাবস্থা, জনমনে আতঙ্ক বরিশালে অটো-সিএনজির একতরফা ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ; আন্দোলনে সমর্থন জানালেন ছাত্রদলের আসিফ আল মামুন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কায় বিশ্বনাথ বিএনপি: মুখোমুখি দুই গ্রুপ, লুনার চেয়ে শক্তিশালী হুমায়ুন বলয় তাড়াশে এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে হতদরিদ্রদের মাঝে বকনা গরু বিতরণ তাড়াশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে আড়ালে থেকেও আ.লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়, কে এই শামসুল ইসলাম? বাঁশখালীতে সরকারি পাইপলাইন দখল ও পরিবেশ দূষণ: এস.কে.বি ক্লাবের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী পদবঞ্চিত রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রী কলেজের ত্যাগী পরীক্ষিত ছাত্রদল নেতা পারভেজ ময়ন আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে রহস্যময় গ্রেপ্তার: ব্যবসায়ী ইয়াকুব সীতাকুণ্ডে তোলপাড় রাজশাহী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অডিও ভাইরাল স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের আলোচনা মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগে মামলা : তুঙ্গে বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির উত্তেজনা গাছের ডাল মাথায় পড়ে কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু “আওয়ামীলীগ মানেই বাংলাদেশ ; আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালি জাতির ইতিহাস ; আর ইতিহাসের মহানায়ক হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু.. তাড়াশে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মারুফ হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন তাড়াশে হিন্দু পরিবারের বসতভিটা দখলের চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় নারীসহ আহত ৬ বরিশালে আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযান: বিএনপি নেতার ছেলে বিকৃত যৌনাচারের সরঞ্জামসহ গ্রেফতার তাড়াশে সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ইকবাল শহিদের স্মরণে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল সৌদিআরব রিয়াদ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ইংরেজি শাখার ২০২৬ইং ব‍্যাচ এর সমাবর্তন অনুষ্ঠান! রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর লুটপাট ও জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন লন্ডনের নর্থহ্যাম্পটনের মেয়র কর্তৃক ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ কমিউনিটি লিডারশিপ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিতন নানিয়ারচর সেনা জোনের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত উত্তরার বিডিআর মার্কেটের পার্কিং স্থান নিয়ে বিরোধ: পুরো মার্কেটকে ঘিরে আদালতে তিন মামলা, উত্তেজনা বৃদ্ধি তাড়াশে বিষমডাঙ্গা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান পাহাড়তলীতে তালিকাভুক্ত মাদক মামলার আসামি রেজাউল করিম গ্রেপ্তার সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সিংগাইরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস তাহিরপুরে ৫২ পিস ইয়াবাসহ ১ ব্যবসায়ী আটক শ্রীবরদীতে আদিবাসী ভূমি অধিকার রক্ষায় মিডিয়া অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন ঝিনাইগাতী বাজারে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ :মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তি ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে বাধ্য! ভারতে মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা সিংগাইরে ছাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১৫ অসহায় পরিবার পেল ১৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তাড়াশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ টি কৃষক পরিবারকে আর্থ প্রদান গ্রাম আদালত সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বড়বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের বছরব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন ২০২৬ ঝিনাইগাতীতে সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোকর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরুটি বৃক্ষরোপণ গণমুখী বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে মোকামতলায় গণমিছিল, অংশ নিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম রূপগঞ্জের সরকারি মুড়াপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ১২৫তম বর্ষপূর্তিতে উৎসবমুখর নবীন-প্রবীণের মিলনমেলা

জুলাই বিপ্লবের ভাঙা আয়না: বিভেদের দায় কার?- মোঃ সেলিম উদ্দীন ।

রিপোর্টারের নাম / ৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

দুই বছরও পূর্ণ হলো না জুলাই বিপ্লবের। অথচ যে স্বপ্ন একদিন মানুষের চোখে নতুন ভোরের আলো জ্বেলেছিল, আজ সেই স্বপ্নের আকাশে জমেছে বিভেদের কালো মেঘ। যে কণ্ঠ একদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একসঙ্গে উচ্চারিত হয়েছিল, আজ সেই কণ্ঠের ভেতর শোনা যায় অভিযোগের প্রতিধ্বনি। যে হাত একদিন পরস্পরের হাত ধরে পরিবর্তনের পথে এগিয়েছিল, আজ সেই হাতের মাঝখানে সন্দেহ, প্রতিযোগিতা ও ক্ষমতার দূরত্ব।

জুলাই ছিল শুধু একটি আন্দোলনের নাম নয়; জুলাই ছিল মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ, অবহেলিত মানুষের আকাঙ্ক্ষার ভাষা, তরুণ প্রজন্মের সাহসী উচ্চারণ। সেখানে ছিল একটি স্বপ্ন—রাষ্ট্র হবে মানুষের, ক্ষমতা হবে জবাবদিহির, আইন হবে সবার জন্য সমান এবং ভবিষ্যৎ হবে বৈষম্য ও ভয়মুক্ত।

কিন্তু বিপ্লবের পথ যতটা উজ্জ্বল, তার পরের পথ ততটাই কঠিন। কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সহজ হতে পারে, কিন্তু ন্যায়ের ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র নির্মাণ করা কঠিন। পুরোনো শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব, কিন্তু সেই ঐক্যকে ব্যক্তিস্বার্থ, ক্ষমতার মোহ ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে ধরে রাখা আরও কঠিন।

আজ প্রশ্ন উঠছে—জুলাই বিপ্লব দ্বিধাবিভক্ত কেন?

এর উত্তর কোনো এক ব্যক্তি, কোনো একটি দল কিংবা কোনো একটি গোষ্ঠীর কাছে সীমাবদ্ধ নয়। এই বিভেদের দায় বহন করতে হবে সবাইকে—যারা বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যারা এর সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা করেছেন, যারা রাজনীতির পুরোনো পথ ধরে নতুন সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছেন এবং যারা নীরব থেকে বিভেদের আগুনকে জ্বলতে দিয়েছেন।

বিপ্লবের সময় মানুষ এক হয়েছিল একটি অভিন্ন স্বপ্নে। কিন্তু পরিবর্তনের পর সেই স্বপ্নের জায়গায় যখন ‘আমি’ বড় হয়ে ওঠে, তখন ‘আমরা’ ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে যায়। যখন আন্দোলনের ইতিহাসকে নিজেদের একার কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরার প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তখন ত্যাগের স্মৃতি বিভক্ত হয়। যখন জনকল্যাণের চেয়ে ক্ষমতার হিসাব বড় হয়ে ওঠে, তখন আদর্শের পতাকায় স্বার্থের ছায়া পড়ে।

আজ ক্যাম্পাস উত্তপ্ত, রাজপথ অস্থির, রাজনীতির আঙিনায় অনিশ্চয়তা। মানুষের মনে আবারও প্রশ্ন—যে পরিবর্তনের জন্য এত ত্যাগ, এত অশ্রু, এত রক্ত, সেই পরিবর্তনের ঠিকানা কোথায়?

মানুষ কি কেবল ক্ষমতার মুখ বদলাতে চেয়েছিল? নাকি তারা চেয়েছিল রাষ্ট্রের চরিত্র বদলাতে?

নতুন মুখ যদি পুরোনো আচরণে ফিরে যায়, নতুন নেতৃত্ব যদি পুরোনো ক্ষমতার ভাষায় কথা বলে, নতুন দিনের রাজনীতি যদি আবারও দখল, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের পথে হাঁটে—তবে বিপ্লবের প্রকৃত অর্থ কোথায়? ক্ষমতার চেয়ার বদলালেই কি রাষ্ট্র বদলায়? পতাকা বদলালেই কি মানুষের ভাগ্য বদলে যায়?

রাষ্ট্র তখনই বদলায়, যখন প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়। যখন আইন ব্যক্তি বা দলের পরিচয়ে নয়, ন্যায় ও সত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। যখন প্রশাসন ক্ষমতাবানদের নয়, জনগণের সেবক হয়ে ওঠে। যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কারও পরিচয় জানতে হয় না। যখন বিচার বিলম্বিত হয় না এবং জবাবদিহি কেবল বক্তৃতার অলংকার হয়ে থাকে না।

আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সম্ভবত এখানেই—আমরা ব্যক্তি ও দলকে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বড় করে দেখি। আমরা নেতৃত্বকে প্রশ্ন করার পরিবর্তে তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করি। আমরা নীতির চেয়ে পরিচয়কে, রাষ্ট্রের চেয়ে দলকে এবং ভবিষ্যতের চেয়ে তাৎক্ষণিক লাভকে বেশি গুরুত্ব দিই। ফলে মানুষ বদলায়, ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু রাষ্ট্রের পুরোনো ক্ষতগুলো রয়ে যায়।

তবু সব আশা কি শেষ?

না। ইতিহাসের পথ কখনো সরল নয়। প্রতিটি বড় পরিবর্তনের পর আসে সংশয়, মতভেদ ও পথের দ্বন্দ্ব। কিন্তু সেই দ্বন্দ্ব যদি আত্মসমালোচনার পথ খুলে দেয়, যদি বিভাজন আমাদের আবারও মূল আদর্শে ফিরিয়ে নেয়, তবে এই সংকটও হতে পারে নতুন উপলব্ধির সূচনা।

আজ প্রয়োজন কৃতিত্বের মালিকানা নিয়ে বিবাদ নয়; প্রয়োজন দায়িত্বের অংশীদার হওয়া। প্রয়োজন কে কত বড় নেতা—সেই প্রশ্ন নয়; বরং কে কতটা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ—সেই প্রশ্ন। প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে শত্রু মনে করা নয়; বরং ভিন্নমতকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য হিসেবে গ্রহণ করা।

জুলাইয়ের চেতনা কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। এটি সেই তরুণের, যে ভয়কে উপেক্ষা করে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল; সেই মায়ের, যিনি সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠিত থেকেও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন; সেই শ্রমজীবী মানুষের, যিনি ভেবেছিলেন—হয়তো এবার রাষ্ট্র তার কথাও শুনবে। জুলাইয়ের চেতনা বাংলাদেশের মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা।

এই আকাঙ্ক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আমাদের ক্ষমতার রাজনীতি থেকে নীতির রাজনীতিতে ফিরতে হবে। ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারকে রাষ্ট্রের ভিত্তি করতে হবে। বিভেদ নয়, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—বিপ্লব ঘটানো কঠিন, কিন্তু বিপ্লবের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা আরও কঠিন। কারণ বিপ্লবের সময় মানুষ একটি অভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক হয়; আর বিপ্লবের পর তাকে নিজের ভেতরের লোভ, অহংকার, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা ও স্বার্থের সঙ্গে লড়াই করতে হয়।

আজ তাই প্রশ্ন—জুলাই বিপ্লব দ্বিধাবিভক্ত কেন—তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, আমরা কি এখনও জুলাইয়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই?

বাংলার আকাশে কি কোনো দিন এমন এক ভোর আসবে, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে নীতি বড় হবে? ব্যক্তির চেয়ে রাষ্ট্র বড় হবে? দলীয় স্বার্থের চেয়ে মানুষের অধিকার বড় হবে?

সেই ভোর আসবে কি না, তা নির্ভর করছে আজকের আমাদের সিদ্ধান্তের ওপর।

যদি আমরা বিভেদের দেয়াল ভেঙে আবারও ন্যায়ের পথে দাঁড়াতে পারি, যদি ক্ষমতার মোহের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের স্বার্থকে বড় করে দেখতে পারি, যদি সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিকে কেবল স্লোগান নয়—রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি করতে পারি, তবে জুলাইয়ের স্বপ্ন এখনও বেঁচে থাকবে।

আর যদি আমরা ব্যর্থ হই, তবে ইতিহাস হয়তো একদি

জুলাই বিপ্লবের ভাঙা আয়না: বিভেদের দায় কার?
প্রগতিশীল কন্ঠস্বর মোঃ সেলিম উদ্দীন ।
দুই বছরও পূর্ণ হলো না জুলাই বিপ্লবের। অথচ যে স্বপ্ন একদিন মানুষের চোখে নতুন ভোরের আলো জ্বেলেছিল, আজ সেই স্বপ্নের আকাশে জমেছে বিভেদের কালো মেঘ। যে কণ্ঠ একদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একসঙ্গে উচ্চারিত হয়েছিল, আজ সেই কণ্ঠের ভেতর শোনা যায় অভিযোগের প্রতিধ্বনি। যে হাত একদিন পরস্পরের হাত ধরে পরিবর্তনের পথে এগিয়েছিল, আজ সেই হাতের মাঝখানে সন্দেহ, প্রতিযোগিতা ও ক্ষমতার দূরত্ব।

জুলাই ছিল শুধু একটি আন্দোলনের নাম নয়; জুলাই ছিল মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ, অবহেলিত মানুষের আকাঙ্ক্ষার ভাষা, তরুণ প্রজন্মের সাহসী উচ্চারণ। সেখানে ছিল একটি স্বপ্ন—রাষ্ট্র হবে মানুষের, ক্ষমতা হবে জবাবদিহির, আইন হবে সবার জন্য সমান এবং ভবিষ্যৎ হবে বৈষম্য ও ভয়মুক্ত।

কিন্তু বিপ্লবের পথ যতটা উজ্জ্বল, তার পরের পথ ততটাই কঠিন। কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সহজ হতে পারে, কিন্তু ন্যায়ের ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র নির্মাণ করা কঠিন। পুরোনো শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব, কিন্তু সেই ঐক্যকে ব্যক্তিস্বার্থ, ক্ষমতার মোহ ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে ধরে রাখা আরও কঠিন।

আজ প্রশ্ন উঠছে—জুলাই বিপ্লব দ্বিধাবিভক্ত কেন?

এর উত্তর কোনো এক ব্যক্তি, কোনো একটি দল কিংবা কোনো একটি গোষ্ঠীর কাছে সীমাবদ্ধ নয়। এই বিভেদের দায় বহন করতে হবে সবাইকে—যারা বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যারা এর সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা করেছেন, যারা রাজনীতির পুরোনো পথ ধরে নতুন সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছেন এবং যারা নীরব থেকে বিভেদের আগুনকে জ্বলতে দিয়েছেন।

বিপ্লবের সময় মানুষ এক হয়েছিল একটি অভিন্ন স্বপ্নে। কিন্তু পরিবর্তনের পর সেই স্বপ্নের জায়গায় যখন ‘আমি’ বড় হয়ে ওঠে, তখন ‘আমরা’ ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে যায়। যখন আন্দোলনের ইতিহাসকে নিজেদের একার কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরার প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তখন ত্যাগের স্মৃতি বিভক্ত হয়। যখন জনকল্যাণের চেয়ে ক্ষমতার হিসাব বড় হয়ে ওঠে, তখন আদর্শের পতাকায় স্বার্থের ছায়া পড়ে।

আজ ক্যাম্পাস উত্তপ্ত, রাজপথ অস্থির, রাজনীতির আঙিনায় অনিশ্চয়তা। মানুষের মনে আবারও প্রশ্ন—যে পরিবর্তনের জন্য এত ত্যাগ, এত অশ্রু, এত রক্ত, সেই পরিবর্তনের ঠিকানা কোথায়?

মানুষ কি কেবল ক্ষমতার মুখ বদলাতে চেয়েছিল? নাকি তারা চেয়েছিল রাষ্ট্রের চরিত্র বদলাতে?

নতুন মুখ যদি পুরোনো আচরণে ফিরে যায়, নতুন নেতৃত্ব যদি পুরোনো ক্ষমতার ভাষায় কথা বলে, নতুন দিনের রাজনীতি যদি আবারও দখল, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের পথে হাঁটে—তবে বিপ্লবের প্রকৃত অর্থ কোথায়? ক্ষমতার চেয়ার বদলালেই কি রাষ্ট্র বদলায়? পতাকা বদলালেই কি মানুষের ভাগ্য বদলে যায়?

রাষ্ট্র তখনই বদলায়, যখন প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়। যখন আইন ব্যক্তি বা দলের পরিচয়ে নয়, ন্যায় ও সত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। যখন প্রশাসন ক্ষমতাবানদের নয়, জনগণের সেবক হয়ে ওঠে। যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কারও পরিচয় জানতে হয় না। যখন বিচার বিলম্বিত হয় না এবং জবাবদিহি কেবল বক্তৃতার অলংকার হয়ে থাকে না।

আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সম্ভবত এখানেই—আমরা ব্যক্তি ও দলকে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বড় করে দেখি। আমরা নেতৃত্বকে প্রশ্ন করার পরিবর্তে তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করি। আমরা নীতির চেয়ে পরিচয়কে, রাষ্ট্রের চেয়ে দলকে এবং ভবিষ্যতের চেয়ে তাৎক্ষণিক লাভকে বেশি গুরুত্ব দিই। ফলে মানুষ বদলায়, ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু রাষ্ট্রের পুরোনো ক্ষতগুলো রয়ে যায়।

তবু সব আশা কি শেষ?

না। ইতিহাসের পথ কখনো সরল নয়। প্রতিটি বড় পরিবর্তনের পর আসে সংশয়, মতভেদ ও পথের দ্বন্দ্ব। কিন্তু সেই দ্বন্দ্ব যদি আত্মসমালোচনার পথ খুলে দেয়, যদি বিভাজন আমাদের আবারও মূল আদর্শে ফিরিয়ে নেয়, তবে এই সংকটও হতে পারে নতুন উপলব্ধির সূচনা।

আজ প্রয়োজন কৃতিত্বের মালিকানা নিয়ে বিবাদ নয়; প্রয়োজন দায়িত্বের অংশীদার হওয়া। প্রয়োজন কে কত বড় নেতা—সেই প্রশ্ন নয়; বরং কে কতটা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ—সেই প্রশ্ন। প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে শত্রু মনে করা নয়; বরং ভিন্নমতকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য হিসেবে গ্রহণ করা।

জুলাইয়ের চেতনা কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। এটি সেই তরুণের, যে ভয়কে উপেক্ষা করে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল; সেই মায়ের, যিনি সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠিত থেকেও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন; সেই শ্রমজীবী মানুষের, যিনি ভেবেছিলেন—হয়তো এবার রাষ্ট্র তার কথাও শুনবে। জুলাইয়ের চেতনা বাংলাদেশের মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা।

এই আকাঙ্ক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আমাদের ক্ষমতার রাজনীতি থেকে নীতির রাজনীতিতে ফিরতে হবে। ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারকে রাষ্ট্রের ভিত্তি করতে হবে। বিভেদ নয়, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—বিপ্লব ঘটানো কঠিন, কিন্তু বিপ্লবের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা আরও কঠিন। কারণ বিপ্লবের সময় মানুষ একটি অভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক হয়; আর বিপ্লবের পর তাকে নিজের ভেতরের লোভ, অহংকার, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা ও স্বার্থের সঙ্গে লড়াই করতে হয়।

আজ তাই প্রশ্ন—জুলাই বিপ্লব দ্বিধাবিভক্ত কেন—তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, আমরা কি এখনও জুলাইয়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই?

বাংলার আকাশে কি কোনো দিন এমন এক ভোর আসবে, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে নীতি বড় হবে? ব্যক্তির চেয়ে রাষ্ট্র বড় হবে? দলীয় স্বার্থের চেয়ে মানুষের অধিকার বড় হবে?

সেই ভোর আসবে কি না, তা নির্ভর করছে আজকের আমাদের সিদ্ধান্তের ওপর।

যদি আমরা বিভেদের দেয়াল ভেঙে আবারও ন্যায়ের পথে দাঁড়াতে পারি, যদি ক্ষমতার মোহের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের স্বার্থকে বড় করে দেখতে পারি, যদি সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিকে কেবল স্লোগান নয়—রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি করতে পারি, তবে জুলাইয়ের স্বপ্ন এখনও বেঁচে থাকবে।

আর যদি আমরা ব্যর্থ হই, তবে ইতিহাস হয়তো একদিন কঠিন প্রশ্ন করবে—

যে স্বপ্নের জন্য মানুষ এক হয়েছিল, সেই স্বপ্নকে বিভক্ত করল কারা?

জুলাইয়ের প্রকৃত বিজয় কোনো ব্যক্তি বা দলের বিজয় নয়। জুলাইয়ের প্রকৃত বিজয় হবে সেই দিন, যেদিন ক্ষমতার চেয়ে নীতি বড় হবে, ব্যক্তির চেয়ে রাষ্ট্র বড় হবে এবং লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে সুশাসন, ন্যায় ও জবাবদিহিতা।

সেই দিনের অপেক্ষায় আজও বাংলাদেশ।

কারণ বিপ্লবের শেষ কথা ক্ষমতা নয়—
বিপ্লবের শেষ কথা মানুষের মুক্তি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
https://slotbet.online/