নিজস্ব প্রতিবেদক
পটিয়া, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও পটিয়া উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শামসুল ইসলাম (সমসু চেয়ারম্যান) দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর আবারও প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব অক্ষুণ্ন রেখে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারবিরোধী তৎপরতা চালাতে তিনি নেপথ্যে থেকে অর্থ ও সাংগঠনিক সহায়তা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, কোলাগাঁও গ্রামের পাঁচটি বৈদ্যুতিক প্রকল্পকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হন শামসুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্প থেকে হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তার ছত্রচ্ছায়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন।
অভিযোগ রয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পরও তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেমে যায়নি। বরং নতুন কৌশলে তিনি তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের সময় তার পরিবারের কেউ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে সরকার পরিবর্তনের পর নিজের ব্যবসা ও প্রভাব রক্ষার উদ্দেশ্যে চাচাতো ভাইদের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। অথচ ৫ আগস্টের আগে তার পরিবার কিংবা আত্মীয়-স্বজনের কেউ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে তিনি বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে পোড়া তেলের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যবসার লাভের তিন ভাগের এক ভাগ উপজেলার কয়েকজন সিনিয়র নেতা এবং এক ভাগ পান স্থানীয় বিএনপির পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের মধ্যে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ কামাল (চাচাতো ভাই), গিয়াস উদ্দীন, খোরশেদ আলম, জামির হোসেন, রুস্তম আলী ও ওয়াসিম এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবু ছিদ্দিক, আবদুর রাজ্জাক, সিরাজুল ইসলাম জুনু, জামাল হোসেন (যুবলীগ ক্যাডার বুলবুলের ভাই) ও আনোয়ার হোসেন হারুনের সুধি নাছিরের ছেলে রুস্তমের নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা।
এছাড়া শান্তিরহাটে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হওয়ার পরও কীভাবে তিনি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায় প্রতিদিনই কোলাগাঁও গ্রামের নিজ বাড়িতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে এলাকার পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতার সঙ্গে সখ্যতার সুযোগ নিয়ে নয়া রাস্তারঘাট এলাকায় সরকারি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে বালুর জমজমাট ব্যবসাও পরিচালনা করছেন শামসুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে এই সমসু চেয়ারম্যান ২০১০ সালের দিকে মদের ব্যবসাসহ অনেক অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোটিপতি বনে যান।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে পটিয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শামসুল ইসলাম প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এবং উপজেলা পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কোলাগাঁও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছবির মার্কেট এলাকায় অবস্থিত নিজ গ্রামবাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে তার বাড়ি-সংলগ্ন চরবাড়ী এলাকায় শামসুল ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে যুবলীগ ক্যাডার ও হত্যা মামলার আসামি বুলবুলের ছোট ভাই মনির, টিটু, শুক্কুর মেম্বারের ভাই রায়হান, সমসুর চাচাত ভাই মহলজ্জমার ছেলে অস্ত্রধারী যুবলীগ ক্যাডার শাহ জামির আবুল হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও অনেকে অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপির পরিচয়ে থাকা কয়েকজন নেতার সহযোগিতায় ওইসব আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইদ্রিস মাঝির ছেলে খোরশেদ আলম, ২ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ ক্যাডার বুলবুলের বড় ভাই জামাল, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেতরের ছেলে সিরাজুল ইসলাম জুনু, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দীন, ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারের ছেলে আবু ছিদ্দিক, নুরুল হক মেম্বারের ছেলে আবদুর রাজ্জাক, যুবদল নেতা জামির হোসেন, বত্তা মনির, মোহাম্মদ হারুনসহ আরও অনেকে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বদলে ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকে শামসুল ইসলাম এখনও তার প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে এ বিষয়ে শামসুল ইসলামের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলে বক্তব্য পাওয়া সাপেক্ষে তা প্রকাশ করা হবে।
https://slotbet.online/