সৌদিআরব থেকে_ছাদেক আহমাদ।
কোরবানির পশুর চামড়া বা এর মূল্য গরিবদের হক। কিন্তু এর প্রক্রিয়াজাত ও সদ্ব্যবহার না হওয়ায় ধংস হচ্ছে সামাজিক অর্থনৈতিক পারস্পরিক সম্পর্ক। ফলে এই অবহেলার ভিন্ন একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে আঞ্জুমান-এ আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট কর্তৃক। এতে করে চামড়া শিল্পে রক্ষায় প্রশংসনীয় উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন আঞ্জুমানে আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট।
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের চামড়া শিল্প এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। একসময়ের সম্ভাবনাময় এই শিল্প আজ অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও অসচেতনতার কারণে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—কোরবানির পশুর চামড়া, যা একসময় এতিম, অসহায়, গরিব মানুষ ও দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ছিল, আজ অনেক স্থানে অবমূল্যায়িত হচ্ছে, কোথাও কোথাও ফেলে দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে আঞ্জুমানে আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ট্রাস্ট যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে—চামড়া শিল্পকে অন্তত আংশিকভাবে হলেও টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে—তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এই উদ্যোগ শুধু একটি শিল্প রক্ষার প্রচেষ্টা নয়; বরং এটি গরিব, অসহায়, এতিম ও মাদ্রাসার হক সংরক্ষণের একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।
কারণ বাস্তবতা হলো, কোরবানির পশুর চামড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থের সঙ্গে বহু গরিব মানুষের জীবিকা জড়িত, বহু এতিমের মুখের হাসি জড়িত, বহু দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান কার্যক্রম জড়িত। তাই এই সম্পদকে নষ্ট করা মানে কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়; বরং হকদার মানুষের অধিকার নষ্ট করা।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ
“وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ”
উচ্চারণ: “ওয়ালা তুবাজ্জির তাবযীরা, ইন্নাল মুবাজ্জিরীনা কানু ইখওয়ানাশ শাইয়াতীন।”
অর্থ: “অপচয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।”
— আল-কুরআন
আরও ইরশাদ হয়েছেঃ
“إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا”
উচ্চারণ: “ইন্নাল্লাহা ইয়ামুরুকুম আন তুয়াদ্দুল আমানাতি ইলা আহলিহা।”
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, আমানত তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে।”
— আল-কুরআন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
“خَيْرُ النَّاسِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ”
উচ্চারণ: “খাইরুন্নাসি আনফাউহুম লিন্নাস।”
অর্থ: “মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে।”
— আল-মু’জামুল আওসাত
আজ আমাদের সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। যদি সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সামান্য হলেও এগিয়ে আসে, তাহলে এই শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।
আমাদের মনে রাখতে হবে—একদিন অবশ্যই আল্লাহ পাকের দরবারে দাঁড়াতে হবে। সেখানে সম্পদ কীভাবে ব্যবহার করেছি, মানুষের হক কতটুকু আদায় করেছি এবং গরিব-অসহায়দের প্রতি কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছি—সবকিছুর হিসাব দিতে হবে। তাই আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই, অপচয় বন্ধ করি এবং গরিব, এতিম ও মাদ্রাসার হক যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি।
আল্লাহ তাআলা আঞ্জুমানে আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা ট্রাস্টের এই উদ্যোগকে কবুল করুন, বরকত দান করুন এবং সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সচেতন মানুষদেরও এমন কল্যাণকর কাজে এগিয়ে আসার তাওফিক দান করুন। আমীন।
মুহাম্মদ মমতাজুল হক আজীজ
অর্থ সম্পাদক ঃ-
আন্জুমানে খোদামুল মুসলেমীন
রিয়াদ কেন্দ্রীয় পরিষদ..
https://slotbet.online/