বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধুমপাড়া সাগরপাড় পকেট গেট এলাকায় সরকারি ফ্রি ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় “বার আউলিয়া ফার্মেসী” নামের একটি ওষুধের দোকানের মালিক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সরবরাহকৃত ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ধুমপাড়া সাগরপাড় এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ হাফছা আক্তার তার অসুস্থ শিশুর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে স্থানীয় “বার আউলিয়া ফার্মেসী”তে যান। এ সময় দোকান মালিক মিজানুর রহমান শিশুর জন্য “এজিথ্রোমাইসিন সাসপেনশন ৩০ মিলি” নামের একটি ওষুধ সরবরাহ করেন। পরে ওষুধটির মোড়ক পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেড (EDCL) কর্তৃক উৎপাদিত সরকারি সরবরাহকৃত ওষুধ।
অভিযোগকারী হাফছা আক্তার জানান, উক্ত ওষুধের মূল্য হিসেবে তার কাছ থেকে ১৪৫ টাকা নেওয়া হয়। এ সময় তিনি ওষুধের ক্রয় রসিদ বা ভাউচার চাইলে দোকান মালিক তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলেও দাবি করেন।
অভিযোগকারী মোছাঃ হাফছা আক্তার, পিতা- বাদশা মিয়া, মাতা- মাজেদা খাতুন, পেশায় চাকরিজীবী। তিনি ধুমপাড়া সাগরপাড় পাবলিক স্কুল রোড এলাকার রিপনের ভবনের তৃতীয় তলার বাসিন্দা।
স্থানীয় কয়েকজন ওষুধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উৎস থেকে সরকারি ওষুধ সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগী দেখেন এবং প্রেসক্রিপশনও প্রদান করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের কাছে সরকারি ওষুধ বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতিটি ওষুধ ৮০ টাকা দরে সংগ্রহ করেছেন। একইসঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে এ ধরনের ওষুধ বিক্রির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মিজানুর রহমান আরও জানান, তার কাছে কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ, ড্রাগ লাইসেন্স কিংবা ট্রেড লাইসেন্স নেই।
প্রতিবেদকের হাতে থাকা ছবি ও তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, উদ্ধারকৃত “এজিথ্রোমাইসিন” সিরাপের বোতলে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে “এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেড (EDCL)” এর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ ধরনের ওষুধ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আওতায় বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি ওষুধ কোনো বেসরকারি ফার্মেসিতে বিক্রির অনুমতি নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারি ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া চিকিৎসাসেবা প্রদান জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা দ্রুত তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
https://slotbet.online/