সহকারী বার্তা সম্পাদক_
মানবিক সংগঠন #হাসির দীর্ঘ পথ চলা, অসহায় মানুষের জন্য কাজের মাধ্যমে এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে আজ চট্টগ্রামের জনমানবের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
মানবসেবামূলক ‘হাসি’ (বা ফুলের হাসি ফাউন্ডেশন) সংগঠন এবং ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম মূলত সৌদি প্রবাসী মোসলেহ উদ্দিন মুন্না এবং তসলিম হাসান হৃদয় (প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক) প্রতিষ্ঠা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেন।
সংগঠনটি একটু হাসির একটি প্রচেষ্টা”কে সামনে নিয়ে ২০১৪ সালের ৫ই জুন হাসি নামক সংগঠনটি সৌদি প্রবাসী মোসলেহ উদ্দিন মুন্না ও তার প্রিয় বন্ধু সাহনেওয়াজ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন।
সেই থেকে শুরু হাসি’র মানবিক কার্যক্রম। অসহায় শিশুদের মাঝে বস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে শুরু হয় এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্নভাবে অসহায় দোস্থ মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে হাসি। শুরুতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই সংগঠনকে আজ এতদূর নিয়ে আসছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য — মহিউদ্দিন জনি,মঈনুদ্দিন মনি,মিনহাজ উদ্দিন রনি,আহমেদ মনসুর,সাইদুর রহমান সাইমন,ইরফানুল আলম হিমেল,মোহাম্মদ শামছু,মোহাম্মদ লিটন, সাইফুদ্দিন সহ আরো অনেকেই।কখনো ফ্রি চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ গাছের চারা বিতরণ, এরই মাঝে মায়ানমার থেকে চলে আসে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে,
হাসি সংগঠন তাদের জন্য নিয়ে যায় খাদ্যদ্রব্য ও চিকিৎসা সামগ্রী। তার মাঝে সংগঠন এর মানবিক কাজকে আরো এগিয়ে নিতে সংগঠনের হাল ধরেন- মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, আব্দুন নুর আইয়ুব,মোহাম্মদ মোর্শেদ,আবুল হাসনাত রাসেল,এম হামিদ হোসাইন,সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ দস্তগীর সহ
এন মোহাম্মদ রিমন, অভি,,সৌরভ, তারেক,সৌমিক,তোফাজ্জল রুকন, আশরাফ জামান,মোহাম্মদ তৌহিদ, ফরহাদ,জসি,মিনহাজ,সামি,তাছিন এবং তাদের বন্ধুরা।
প্রতিবছর ঈদ বস্ত্র, শীতবস্ত্র, ইফতার সামগ্রী বিতরণ এবং অসহায় অসুস্থ রোগীর জন্য ও কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার হাতে তুলে দেয় আর্থিক অনুদান।করোনা কালে হাত ধোয়ার সাবান, মাস্ক, সেনিটাইজার ও রাস্তার ধারে ধারে বসানো হয় হাত ধুয়ার জন্য পানির ড্রাম।ঘর থেকে যখন কর্মজীবী মানুষেরা বের হতে পারছে না সেই সমস্ত মধ্যবিত্ত পরিবারে ঘরের দুয়ারে দুয়ারে রেখে এসেছে খাদ্যদ্রব্য। এমনকি হাসির সদস্যরা নিজস্ব অর্থায়নে নিজেদের রান্না করা খাবার রাস্তার ধারে পড়ে থাকা অসহায় দোস্থ মানুষের মাঝে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় বিতরণ করেন। গত কিছুদিন আগে ফেনি’তে ভয়াবহ বন্যায় অসহায় মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে গিয়েছে হাসি।
এরই মাঝে সরকারি ভাবে অনুমোদন প্রাপ্ত হয়েছে এই সংগঠনটি।
হাসি সংগঠনের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি সেবামূলক কার্যক্রম মানুষের মাঝে প্রশংসনীয় হয়েছে-তৃষ্ণাত্ব পথচারী ও সাধারণ মানুষের জন্য প্রথম একটি ঠান্ডা পানির মেশিন স্থাপন করা হয় কোতোয়ালি থানা সংলগ্ন গেইটে।এর পর একে একে স্থাপন করা হয়েছে– রোগী ও রোগীর স্বজনদের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইটি -জেনারেল হাসপাতালে দুইটি বিশুদ্ধ পানির মেশিন। শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া হয়েছে- জামেয়া খানকাহ শরিফ,কদম মোবারক স্কুল ও লালখান বাজার স্কুলে একটি করে।
এরি মাঝে কর্ণফুলী ব্রিজ,চাকতাই ভাংগাপুল,আনসার ক্লাব,কদম মোবারক স্কুলের সামনে,নুপুর মার্কেট সহ নাসিরাবাদ শিল্পাঞ্চল পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশুদ্ধ পানির মেশিন।প্রচন্ড গরমে নগরীর বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ঠান্ডা পানি/শরবত বিতরনের পাশাপাশি অসহায় শিশুদের মাঝে পরিবেশন করেন খাবার।
এইভাবে চালিয়ে যাচ্ছে হাসির মানবিক কার্যক্রম।
পানির মেশিন গুলো স্থাপন থেকে শুরু করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করতে যে দুইজন মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট করে যাচ্ছে তাদের মধ্যে আইয়ুব ও মহিউদ্দিনের নাম বলতেই হয়। দীর্ঘ এই পথচলায় আরো অনেকেই আমাদের পাশে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করেছে হয়তো এই মুহূর্তে তাদের অনেকের নাম মনে করতে পারছিনা বলে আমি দুঃখিত। আরেকটা কথা না বললেই নয় মানবিক কাজ করতে গেলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। সেই অর্থ যোগান দিতে যারা আমাদেরকে সব সময় যেকোনো মানবিক কাজের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রত্যেকের কাছে মানব সেবামূলক সংগঠন হাসির প্রতিটি সদস্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।
পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ছাত্র / ছাত্রী ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আগামীতেও এই সংগঠন সারা বাংলাদেশের মানুষের পাশে মানবিক কাজ এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা পরামর্শ ও দোয়া কামনা করছি।
https://slotbet.online/