রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. সেলীম রেজার সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত বক্তব্যকে একপাক্ষিক, বিভ্রান্তিকর এবং প্রকৃত তথ্য আড়াল করার অপচেষ্টা বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ।
পাল্টা বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যক্ষ মো. সেলীম রেজার সাময়িক বরখাস্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছায় হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানববন্ধনে তাকে অন্যায়ভাবে দীর্ঘদিন বরখাস্ত রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাকে নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা অনভিপ্রেত এবং এটি চলমান তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার শামিল।
বিবৃতিদাতারা বলেন, আইনের দৃষ্টিতে কেউই ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। তাই মানববন্ধন বা জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার পরিবর্তে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই দায়িত্বশীল আচরণ।
তারা দাবি করেন, তদন্ত যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অধ্যক্ষ সেলীম রেজা সাবেক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার প্রভাব ব্যবহার করে কলেজে নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তাকে আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. সেলীম রেজার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে।
বিবৃতির শেষাংশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার না করে শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
https://slotbet.online/