নিজস্ব প্রতিবেদক,
লাকসাম:- কুমিল্লার লাকসাম পৌর শহরে একের পর এক পুকুর ও জলাশয় ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহল প্রশাসনের নীরবতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করছে। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতের আঁধারে কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে জলাশয় ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এসব কর্মকাণ্ডের সময় প্রশাসনের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। পরে সাধারণ মানুষ সেই জমি কিনে বৈধভাবে বাড়ি নির্মাণের জন্য পৌরসভায় আবেদন করলে জমির শ্রেণি “পুকুর” থাকায় অনুমোদন পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যখন পুকুর ভরাট করা হয় তখন প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। কিন্তু আমরা জমি কিনে বাড়ি করতে গেলে বলা হয় জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়নি, তাই অনুমোদন মিলবে না। তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু সাংবাদিককে ম্যানেজ করে বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে পরিবেশ ধ্বংস, জলাবদ্ধতা ও ভূগর্ভস্থ পানির সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর ও জলাশয় ভরাটের ফলে ভবিষ্যতে শহরে জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এখনই অবৈধ পুকুর ভরাট বন্ধে কঠোর নজরদারি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।
সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে—যদি কোনো জমি সরকারি রেকর্ডে পুকুর হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকে, তাহলে সেটি ভরাটের সময় কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না? পরে সাধারণ ক্রেতাদের হয়রানি করা কতটা যৌক্তিক—এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা প্রশাসন ও লাকসাম পৌরসভা-এর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অবৈধ পুকুর ভরাট বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
https://slotbet.online/