পাহাড়ী কন্যা বান্দরবানের সৌন্দর্য বর্ধন ও জনদুর্ভোগ কমাতে প্রতি বছর ইজিবি প্রকল্পের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয় কোটি কোটি টাকা। কিন্তু সেই উন্নয়নের সুফল পাচ্ছেন না পৌরবাসী। অভিযোগ উঠেছে, পৌরসভার আওতাধীন লাংগীপাড়া হাজীপাড়া এলাকায় বান্দরবান পৌরসভার থেকে কাজটি পান ইউটিমং মারমা নামে। ঠিকাদারের কাজটি করছেন মো শফি।
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড এর লাংগি পাড়া – হাজি পাড়া এলাকায় ইউটিমং এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ কোটি ২৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৬৩ টাকার ব্যায়ে নির্মিত এ (ইজিবি) প্রকল্প হাতে পায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রিটানিং ওয়াল ও কালভার্ট নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে লোকাল পাথর ও বিল্ডিং এর ছাদ ভাঙ্গা ও ব্রিজ ভাঙ্গা দিয়ে। এইভাবেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে চালানো হচ্ছে কাজ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন: “আমরা বারবার কাজের মান নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু ঠিকাদাররা আমাদের কথা শোনে না। তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো লোকাল পাথর ও বিল্ডিং এর ছাদ ভাঙ্গা ও ব্রিজ ভাঙ্গা দিয়ে ঢালাই কাজ চালাচ্ছে। বৃষ্টি হলে এই রাস্তার চিত্র খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। এমন নামেমাত্র উন্নয়ন করা চেয়ে না করাটাই উত্তম।”
বান্দরবান পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন: নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া আসার পর থেকে দেখছি বিভিন্ন ঠিকাদারদের অনিয়ম ও দুর্নীতির গোপন রাখতে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে থাকেন। সেই সুবাদে তারা আরো অনিয়ম ও দুর্নীতির দিকে দিনদিন ঝুঁকছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে: প্রভাবশালী সাবেক পৌর বিএনপির নেতা মো শফি ঠিকাদারের এসব কাজ ক্ষমতার বলে বাগিয়ে নিচ্ছে। কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীদের রহস্যজনক নীরবতা দুর্নীতির এই অভিযোগকে আরও পাকাপোক্ত করছে।
চলমান কাজের ঠিকাদার ও পৌর বিএনপির নেতা মোঃ শফিকে মোটো ফোনে লাংগি পাড়ার কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি এই কাজের কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যটা পেয়ে থাকেন তাহলে আপনাদের যা মন চাই তাই করুন। এবং তিনি আরো বলেন, এই কাজ আমার নয়-এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
পৌরসভার ওর্য়াক স্টেন রাহুল দাশ সাংবাদিক দের জানিয়েছেন: মোঃ শফি বিল্ডিং এর ছাদভাঙ্গা ও ব্রিজ ভাঙ্গা এবং লোকাল পাথর এর সাথে মিক্সচার করে রিটার্নিং ওয়াল ও কালভার্টের ঢালাই কাজে ব্যবহার করছেন। আমি বারবার মানা করার পরেও আমার বাধা মানেন না। আমি আমার উধর্তন কর্মকর্তাদের এসব অনিয়মের অভিযোগ জানিয়েছি।
নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন: এই প্রকল্পের কাজে কোন ধরণের ত্রুটি রাখা হচ্ছে না এবং আমি অনেকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেছি এবং এই কাজ শতভাগ হচ্ছে।
বান্দরবান পৌরসভার প্রসাশক মোহাম্মদ মাহাবুবউল করিম সাংবাদিক দের জানিয়েছেন: লাংগি পাড়ার এই প্রকল্পের কাজের সাথে যদি ঠিকাদারের অনিয়মের অভিযোগ এবং কেউ যদি এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আমি সাথে সাথে আমার প্রশাসনিক ভাবে যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার আমি ব্যবস্থা নেব।
অনেক ক্ষেত্রে কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের পরিবর্তে পৌরবাসীর কপালে জুটছে জনদুর্ভোগ।
পার্বত্য এই জনপদের টেকসই উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ এবং দুর্নীতির এই বৃত্ত ভাঙা না গেলে সরকারের মহতি উদ্যোগগুলো কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।