গাছা থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি, গাজীপুর:
গাজীপুরের গাছা থানার পুলিশের বিরুদ্ধে এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া, মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক নারী।
শনিবার (১৩ মার্চ) গাজীপুরের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ফরিদা ইয়াসমিন এসব অভিযোগ করেন। তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকার বাসিন্দা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে গাছা থানা পুলিশ তার ছেলে রাহুল খানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তারা নানা অজুহাত দেখায় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ছেলেকে একটি ডাকাতি মামলায় জড়ানো হয়। অথচ ওই মামলার প্রকৃত আসামিদের আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, তার ছেলে ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়।
ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, একই ঘটনায় আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছিল এবং তাদের কাছ থেকে একটি পিসি উদ্ধারের কথা বলা হয়। তবে তার ছেলে ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার প্রভাবের কারণে তাদের পরিবারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রায় ২০ বছর ধরে তাদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এছাড়া, গত ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি গাজীপুর আদালতে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, “আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা এবং আমার ছেলের মুক্তির জন্য প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের একজনকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তিনি নিজেও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, গাছা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ এরশাদুর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, রাহুলের বিরুদ্ধে এ মামলা ছাড়াও আরও সাতটি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে অভিযোগে পুলিশ বা কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
https://slotbet.online/