মোঃ সেলিম উদ্দীন
সে জানত, কিছু ভালোবাসার কোনো উদ্ধার নেই।
তবুও এই ভালোবাসাটা তাকে বেছে নিয়েছিল।
অথবা সে নিজেই এমন একজনকে বেছে নিয়েছিল—
যার নাম আফরোজা,
আর যার জীবনে সে ছিল শুধুই একটি ক্ষণিকের উপস্থিতি।
আফরোজার সাথে তার গল্পটা শুরু হয়েছিল খুব শান্তভাবে।
কোনো অঙ্গীকার ছিল না,
কোনো ভবিষ্যৎ আঁকা হয়নি।
শুধু ধীরে ধীরে
আফরোজা তার প্রতিদিনের ভাবনার ভেতর ঢুকে পড়েছিল—
এমনভাবে,
যেন বেরিয়ে যাওয়ার দরজা আর খোলা নেই।
সে বুঝেছিল, আফরোজাকে পাওয়া যাবে না।
এই বোঝাপড়াটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর।
কারণ হারানোর ভয় মানুষকে থামায়,
কিন্তু না-পাওয়ার নিশ্চিত জ্ঞান
মানুষকে ধ্বংস করে দেয় ধীরে ধীরে।
আফরোজা ভালো আছে।
এই তথ্যটা সে নিজের মতো করে জেনেছে—
কাউকে জিজ্ঞেস করে নয়,
কাউকে জানিয়ে নয়।
আর এই জানাটাই তাকে প্রতিদিন ভাঙে।
কারণ আফরোজার ভালো থাকার গল্পে
তার কোনো প্রয়োজন পড়েনি কখনো।
রাতে যখন পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়ে,
তখন তার ভেতরের প্রশ্নগুলো জেগে ওঠে।
সে কাউকে দোষ দেয় না।
আফরোজাকেও না।
কারণ আফরোজা কখনো তাকে কিছু দেয়নি—
তাই নেওয়ার প্রশ্নও আসে না।
ভুলটা ছিল একতরফা,
আর একতরফা ভুলের কোনো বিচার হয় না।
সে চেষ্টা করেছে নিজেকে বোঝাতে—
কম চাইলে কষ্ট কমবে।
চুপ থাকলে হয়তো থাকা যাবে।
নিজেকে গুটিয়ে রাখলে হয়তো
একদিন গুরুত্ব পাওয়া যাবে।
কিন্তু আফরোজার জীবনে
গুরুত্ব পাওয়া যায় না—
শুধু প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে
নিঃশব্দে বাদ পড়ে যেতে হয়।
আফরোজা তাকে হারায়নি।
হারাতে হলে আগে ধরে রাখতে হয়।
সে শুধু একদিন বুঝে গেছে—
এই মানুষটার জীবনে
তার জায়গাটা কখনোই ছিল না,
ছিল শুধু একটা অভ্যাস,
যেটা সহজেই বদলে ফেলা যায়।
আজও কেউ যদি তাকে জিজ্ঞেস করে—
“তুমি কাকে ভালোবাসো?”
সে চুপ করে থাকে।
কারণ আফরোজার নামটা এখন
ভালোবাসার নয়—
একটা দীর্ঘ সহ্যের নাম।
হয়তো একদিন
এই ভার হালকা হবে।
হয়তো সময় সত্যিই সব ঠিক করে দেয়।
কিন্তু আজ—
আজ সে শুধু এটুকুই জানে,
কিছু মানুষ আসে
জীবনে থাকার জন্য নয়,
সারাজীবন মনে রয়ে যাওয়ার জন্য।
আর আফরোজা—
সে আর মানুষ নয়।
সে এখন
একটা শিক্ষা,
যার মূল্য দেওয়া হয়েছে
ভালোবাসা দিয়ে,
আর শোধ করা হচ্ছে
নীরবতায়।
পৃথিবীতে কত পথ, কত বাঁক—
আর আমি শুধু এক পথের খোঁজে,
যেখানে আমার হৃদয় পৌঁছাবে
তোমার হৃদয়ের কাছে।
নোট: গল্পটি কাল্পনিক
https://slotbet.online/