সৈয়দ কাহের বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে তিন শতাধিক সাংবাদিক ও যুক্তরাজ্যের কমিউনিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন ২৫ জানুয়ারি পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন ভেন্যুতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সাধারণ সভা শুরু হয় দুপুর ১২টায় এবং চলে বেলা ২টা পর্যন্ত।
এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রথম বৃটিশ বাংলাদেশী জাজ বেলায়েত হোসেন। নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহগির বখত ফারুক ও বৃটিশ বাংলাদেশী টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র জেনারেল সেক্রেটারি সিরাজুল বাসিত চৌধুরী। তাদের নেতৃত্বে এবার কাজ করে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী টিম।
মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৩৫ জন। এর মধ্যে কাস্ট হয়েছে ৩২৫টি ভোট, যা মোট ভোটের ৯৭ শতাংশ। অনলাইনে ৩৪টি ব্যালট পেপারের আবেদন করা হলে নির্বাচন কমিশনের কাছে ফেরত এসেছে ৩১টি । দুইটি ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচনে সভাপতি পদে তারেক চৌধুরী ১৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাঈম চৌধুরী পেয়েছেন ১৫৫ ভোট।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে তাইসির মাহমুদ ১৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আবদুল কাইয়ুম, ভোট পেয়েছেন ১৫১। সহ-সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাদ চৌধুরী বাবু ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ পদে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাউল করিম মৃধা ৯৬ ভোট এবং মোঃ সালা উদ্দিন শাহিন পেয়েছেন ৫১ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ আকরামুল হোসেন আকরাম ১৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সালেহ আহমদ পেয়েছেন ১৫৮ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ ১৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাকির হোসেন পেয়েছেন ১৩৩ ভোট।
কোষাধ্যক্ষ পদে মোঃ আবুল হান্নান ১৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনাজ সুলতানা পেয়েছেন ১২৪ ভোট।
যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ পদে মোঃ এখলাছুর রহমান পাক্কু ১৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ ইব্রাহিম খলিল পেয়েছেন ১৪৫ ভোট।
সাংগঠনিক ও ট্রেনিং সম্পাদক পদে আলাউর রহমান খান শাহিন ১৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। প্রতিদ্বন্দ্বী আফজাল হোসেন পেয়েছেন ১৫৫ ভোট।
মিডিয়া এন্ড আইটি সম্পাদক পদে ফয়সল মাহমুদ ১৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ আব্দুস সাত্তার মিশু পেয়েছেন ১৩০ ভোট।
ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সম্পাদক পদে রুপি আমিন ১৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী আনিসুর রহমান আনিস পেয়েছেন ১৩১ ভোট।
নির্বাহী সদস্যের ৫ টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ সরওয়ার হোসেন (২০১), সাহিদুর রহমান সোহেল (১৮৯), লোকমান হোসেন কাজী (১৮১), ফারজানা চৌধুরী (১৬১) ইনামুল হক চৌধুরী (১৬১)।
সদস্য পদে অন্য বিজিত প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন, তারা হলেন হাসনাত চৌধুরী (১৪৮), মোহাম্মদ সাজু আহমেদ (১৩০), মোহাম্মদ আবু তালেব (১০৯), ফজলে রহমান পিনাক (৯৭), সাঈদ রহমান (৮৬)।
প্রেস ক্লাবের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির জন্য দুইটি অ্যালায়েন্স থেকে ৩০ জন প্রার্থী ও শুধুমাত্র সহ-সভাপতি পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ৩১ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তন্মধ্যে তারেক- আকরাম- শাহনাজ অ্যালায়েন্স থেকে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক ও ট্রেনিং সম্পাদক , মিডিয়া এন্ড আইটি সম্পাদক, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সম্পাদক এবং ২টি নির্বাহী সদস্যপদসহ ৮টি পদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। প্রতিদ্বন্দ্বী সাঈম- সালেহ – হান্নান অ্যালায়েন্স কোষাধ্যক্ষ, সহ-সাধারণ সম্পাদক, সহ কোষাধ্যক্ষ, ৩ টি নির্বাহী সদস্য পদসহ মোট ৬ জন জয়ী হয়েছেন। একমাত্র সহ-সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন আহাদ চৌধুরী বাবু। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ৭৬ ভোট বেশী পেয়ে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন সাঈম- সালেহ – হান্নান অ্যালায়েন্সের মোঃ সরওয়ার হোসেন। তিনি ২০১ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন সাঈম- সালেহ – হান্নান অ্যালায়েন্সের মোঃ আবুল হান্নান। তার প্রাপ্ত ভোট ১৯৮। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনাজ সুলতানা থেকে ৭৪ ভোট বেশী পেয়ে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। হান্নান বিগত ৪ বছর মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি ছিলেন। এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হলেন। তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন তারেক- আকরাম- শাহনাজ অ্যালায়েন্সের ফয়সল মাহমুদ ও রুপি আমিন। তাদের দুজনেই ভোট পেয়েছেন ১৯০টি। তারা বিগত কমিটিতে ছিলেন। রুপি ছিলেন বিগত কমিটির ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সম্পাদক। এবার তিনি এ পদে পুনরায় নির্বাচিত হলেন। ফয়সল মাহমুদ বিগত কমিটিতে ছিলেন নির্বাহী সদস্য হিসেবে। এবার তিনি মিডিয়া এন্ড আইটি সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হলেন। এছাড়াও নির্বাহী সদস্য পদে ভালো ভোট পেয়েছেন সাহিদুর রহমান সোহেল। তার প্রাপ্ত ভোট ১৮৯। তিনি এ পদে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী, জেনারেল সেক্রেটারি মো. আকরামুল হোসেন এবং ট্রেজারার মো. আব্দুল হান্নান লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য, সম্মান এবং কর্মের যে ধারা চলে আসছে তা আরো বৃদ্ধিতে নিরলস কাজ করে যাবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা এ ক্ষেত্রে সংগঠনের সকল সদস্যের সর্বাত্মক সহযোগিতা, আন্তরিকতা এবং ভালোবাসা প্রত্যাশা করেন।
এদিকে ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর,ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর খায়রুল আলম লিংকন ইউকে বিডি টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে এক অভিনন্দন বার্তায় “লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে নিবাচিত সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন নেতৃত্বের দক্ষ ও দায়িত্বশীল পরিচালনায় আগামী দিনে ক্লাবের কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে এবং প্রবাসে বাংলা সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন।
দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা।
এরপর শুরু হয় ভোটগ্রহণ। বিকেল আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সদস্যরা ভোট প্রয়োগ করেন।
সন্ধ্যায় ছিলো লাইফ মেম্বার রিসিপশন, এলবিপিসি মিডিয়া এওয়ার্ড, এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
এজিএম-এর শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সদ্যবিদায়ী সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের। তিনি তাঁর মেয়াদকালের বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কমিটমেন্ট করা, কমিটমেন্টে থাকা এবং কমিটমেন্ট রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। আশাকরি যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব আরো সমৃদ্ধি আনবেন। তিনি বিদায়ী কার্যকরী কমিটির সদস্যদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশংসা করে তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই সাথে ক্লাবের ৬৫ জন নতুন সদস্যসহ ৩৩৫জন সদস্যকে অভিনন্দন জানান।
সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশকালে তাইসির মাহমুদ বলেন, মর্যাদার সাথে ক্লাবকে কমিউনিটির কাছে তুলে ধরতে চেয়েছি গত দুইটি বছর। আমরা আশা করি সফল হয়েছি।
তিনি এই বছর অনলাইন মেম্বারশীপ পদ্ধতি চালু এবং দেশজুড়ে ২০টি মিডিয়া এওয়ার্ড প্রবর্তন করাকে ক্লাবের অন্যতম দুটি সফল কাজ হিশেবে উল্লেখ করেন।
বিদায়ী ট্রেজারার সালেহ আহমেদ আর্থিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। জানান, ক্লাবে প্রায় ২২১ হাজার পাউন্ডের সম্পদ রয়েছে।
এজিএম-এ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মুহাম্মদ জুবায়ের ও তাইসির মাহমুদ। এজিএম-এর শেষ পর্যায়ে বিশিষ্ট সাংবাদিক মার্ক টালির মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন উপলক্ষে ইস্ট লন্ডনের ইম্প্রেশন ইভেন্ট ভেনু সাংবাদিকদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। এতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে তিন শতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগম। তিনি তার বক্তব্যে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর সাথে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা আমাদের কমিউনিটির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব এবং সাংবাদিকতার উন্নয়নে আপসানা বেগম তার পক্ষ থেকে সম্ভব সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
https://slotbet.online/