সৌদিআরব থেকে ছাদেক আহমাদ।
গত ২০ শে ফেব্রুয়ারি বাথা মার্কাব এরিয়ায় সিআইডি পরিচয়ে অর্থ ছিনতাই ও অপহরণের কবলে পড়েন কিশোরগঞ্জের আনোয়ার হোসেন।
তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অনুধাবন করতে পারলে ভুক্তভোগী আনোয়ার ৯৯৯ কল দেন। তা দেখে সিআইডি পরিচয় বহনকারী অপহরণকারীরা তার কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে যায় এবং আনোয়ার হোসেন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে,প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে এলে দেখেন মাটিতে পড়ে আছে এবং সাথে থাকা অর্থ ও মোবাইল খুঁজে পান নাই, হতভম্ব হয়ে দু’জন পথযাত্রীর সহযোগিতায় বাসায় ফিরেন।
ভয়ে আতঙ্কিত আনোয়ার কোন প্রকার আইনি সহযোগিতা না নিয়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ফেসবুকে পোস্ট করেন।
ভুক্তভোগী আনোয়ার জানেন না অপহরণের পর তার সাথে কি ঘটেছিল কারণ ততক্ষণে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
কিন্তু গত ০৫-ই,মার্চ তার পূর্ব পরিচিত আসাদুজ্জামান নিজ ফেইসবুক আইডিতে আনোয়ারের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির ভিডিও পোস্ট করে এবং আনোয়ারকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মানহানি বা হেনস্থা করেন।
এতে করে জন সচেতন ও ভুক্তভোগী ধারণা করছেন যেহেতু অপহরণের পর ধারন কৃত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া তথা আসাদুজ্জামানের ফেইসবুক আইডিতে পোষ্ট দেওয়া হয়েছে সেহেতু আসাদুজ্জামান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই অপহরণের সাথে জড়িত।
এছাড়াও ভুক্তভোগী আনোয়ার, অপহরণ ও অর্থ ছিনতাইয়ের সাথে আসাদুজ্জামান জড়িত থাকার বিষয়টি অনুমান করেন এইজন্য যে, আনোয়ার কে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ভিডিও যে বা যারা পাঠিয়েছে, তারা আসাদুজ্জামানের লোক বলে বিষয়টি মনে করা হয়।
কারন আসাদুজ্জামান ফেইসবুকে আইডিতে পোষ্ট দেয়ার সময় দেশে অবস্থান করিতেছে।
আনোয়ার হোসেন একজন সৎ ও সামাজিক পরিচিত ব্যক্তি এবং কিশোরগঞ্জ প্রবাসী উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা।
ঘটনাটি কেন্দ্র করে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান কিশোরগঞ্জ প্রবাসী উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্যদের কে প্রশ্নবিদ্ধ করে ও হেনস্থা করে যাচ্ছেন।
অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেনের এক পরিচিত মাহবুব মিয়া নামে এক জনকে সৌদিআরব নিয়ে আসেন, কিন্তু কোন কাজকর্ম না দিয়ে দুই মাস দশ দিন পর ইকামা নাম্বার প্রদান করেন। দুর্চিন্তায় পড়ে আনোয়ার হোসেন মাহবুবের স্বপক্ষে কথা বলতে গেলে আসাদুজ্জামান এর সাথে কথোপকথন করেন, সময় কালক্ষেপণ করে আসাদুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে আনোয়ারকে হুমকি প্রদান করেন এবং মাহবুব মিয়া হুরুব দিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী আনোয়ার গত
০৭-মার্চ, রিয়াদে অবস্থানরত কমিউনিটির বিশেষ ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মীদেরকে বিষয়টি জানান এবং সাংবাদিক সম্মেলন বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ভুক্তভোগী মিডিয়ার মাধ্যমে সৌদিআরব বাংলাদেশ দূতাবাস, বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সু-দৃষ্টি কামনায় পারিবারিক নিরাপত্তায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচারের আর্জি জানান।
এসময় মিডিয়া কর্মী ও রিয়াদ কমিউনিটির বিশেষ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি স্পর্শকাতর বলে রিয়াদ কমিউনিটির পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে হৃদয় আহমেদ স্বপন ও আব্দুস সহিদ মিয়া জানান সৌদিআরব বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয় গুলো তদন্ত স্বাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার জন্যে দাবি জানান।
কারন বাংলাদেশ প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের সিংহ ভাগ মধ্যে প্রাচ্যের সৌদিআরব আরব থেকে বিরাট অবদান রাখছে।
সৌদিআরবের শ্রমবাজারে প্রায় ৩৫লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক এখানে কাজ করছে। কতিপয় অসাধু চক্র নিজ দেশের সন্মানের কথা চিন্তা না করে দিন দিন অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মতো দুঃসাহসীকতায় শ্রমিক বাজার কে হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে শ্রমবাজারে বিরাট ধরনের হুমকির সম্মুখীন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
তাই সৌদিআরব দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সহিত দেখে সমাধান করবেন বলে জনসচেতনতা প্রত্যাশা করছেন।
ভুক্তভোগী সৌদিআরব বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, এতে জনসচেতনের সহযোগিতা কামনা করেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি উল্লেখ করেন।
https://slotbet.online/