আমির হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় নির্বাচনের রেশ না কাটতেই হাওরবেষ্টিত জনপদ খ্যাত তাহিরপুর-এ শুরু হয়েছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যাপক প্রচারণা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকরা নিয়মিত প্রচার চালাচ্ছেন। বিশেষ করে বিএনপির সম্ভাব্য ছয় প্রার্থীকে ঘিরে দলীয় তৃণমূল ও সমর্থকদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
প্রচারণার শীর্ষে রয়েছেন বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের প্রয়াত চেয়ারম্যান আলহাজ জয়নাল আবেদীনের দুই ছেলে—সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আফতাব উদ্দিন এবং তার বড় ভাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিন। যদিও তাদের পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে, রাখাব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণও করেছেন।
বিএনপির সম্ভাব্য অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, অপর যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী। তারা দুজনই কামরুজ্জামান কামরুল-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মেহেদী হাসান উজ্জ্বল দীর্ঘদিন ধরে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এছাড়া বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ খসরুল আলম এবং কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এনামুল হক এনামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
একাধিক প্রার্থী থাকায় তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দিলেও উপজেলা বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে নাকি নির্দলীয়ভাবে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা মিঠু রঞ্জন পাল। গত উপজেলা নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হয়ে আলোচনায় এলেও প্রত্যাশিত ফল পাননি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তিনি সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম দুইবার নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী সরকারের সময় বিভিন্ন চাপ থাকা সত্ত্বেও দল পরিবর্তন না করে নীরব রাজনৈতিক অবস্থানে ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। অন্যদিকে আলহাজ খসরুল আলম স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
আফতাব উদ্দিন বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসাই তার মূল শক্তি। নির্বাচিত হয়েও প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার আক্ষেপ জানিয়ে আগামীতে সুযোগ পেলে নিজেকে জনগণের কল্যাণে উৎসর্গ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে জনপ্রিয়তা বিবেচনায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
সবমিলিয়ে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন ঘিরে সুনামগঞ্জ-এর তাহিরপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। এখন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররা।
https://slotbet.online/