ফরহাদ রহমান স্টাফ রিপোর্টার : পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ মালিক-ব্যবস্থাপক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে জেলা প্রশাসন।

সাম্প্রতিক সময়ে ইনানী, কলাতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড এবং পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় পর্যটনকেন্দ্রিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি সমুদ্রে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এসব মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে শনিবার (২৪ অক্টোবর) শহিদ সুভাষ হলে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসন কক্সবাজারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। এতে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), পুলিশ সুপার, ট্যুরিস্ট পুলিশ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), সিভিল সার্জন ও স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
সভা শুরুতে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা, অগ্নিনিরাপত্তা, অবকাঠামোগত ঝুঁকি এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান মালিকদের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে ফায়ার লাইসেন্স, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমন পথ এবং কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ সংস্কার, অভিভাবক ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের রুম বরাদ্দ নিষিদ্ধ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ও গেস্ট রেজিস্টার সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেল’ চালুর আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে পাটুয়ারটেক-হিমছড়ি এলাকায় নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব উচ্চপর্যায়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়াতে সৈকতে লাইফগার্ড, ফ্লাডলাইট ও সিসিটিভি ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, পর্যটকরা কক্সবাজারে আসেন আনন্দ ও স্বস্তির জন্য। তাই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের নয়, পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
‘পর্যটক আসে আনন্দের খোঁজে, ফিরতে চায় নিরাপদ স্মৃতি নিয়ে-সেই বিশ্বাস রক্ষা করাই আমাদের অঙ্গীকার।’
নিরাপত্তাই হোক কক্সবাজার পর্যটনের পরিচয়-সবার দায়িত্বে, সবার সহযোগিতায়।
দৈনিক প্রতিবাদ প্রকাশক ও সম্পাদক
সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩