শাহ লাভলী রহমান: সন্ধ্যার পর একটি মেয়ে বাড়ি ফিরছিল। তার হাতে হয়তো ছিল নিজের জীবনের ছোট ছোট স্বপ্ন। সামনে ছিল আরেকটি সাধারণ দিন। কিন্তু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় তমা খাতুনের ক্ষেত্রে সেই পথ আর বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়নি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার পথে তমাকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এবং তার সাবেক স্বামীকে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সবচেয়ে সাধারণ পরীক্ষা হতে পারে একটি মেয়ের সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার পথ। রাস্তা নিরাপদ কি না, এটি শুধু পুলিশ টহলের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িত স্থানীয় নিরাপত্তা, অপরাধের পূর্বতথ্য, দ্রুত পুলিশি সাড়া, চিকিৎসা, ফরেনসিক সক্ষমতা এবং বিচারপ্রক্রিয়া।কিন্তু আমাদের আলোচনায় প্রায়ই একটি ভয়ংকর প্রবণতা দেখা যায় ঘটনা ঘটার পর আমরা ভুক্তভোগীর জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলি।
কোথায় গিয়েছিল?
কেন গিয়েছিল?
কার সঙ্গে ছিল?
অথচ প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত অপরাধটি কীভাবে ঘটল এবং অপরাধীকে কেন থামানো গেল না? নারীর পোশাক, চলাফেরা বা ব্যক্তিগত জীবন কোন অপরাধীর সহিংসতার বৈধতা তৈরি করে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চিকিৎসা। যৌন সহিংসতার ঘটনায় চিকিৎসা শুধু শারীরিক চিকিৎসা নয়; প্রমাণ সংরক্ষণ, ফরেনসিক পরীক্ষা, জরুরি চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তা সবই গুরুত্বপূর্ণ। তমার মৃত্যু এখন তদন্ত ও বিচারব্যবস্থার জন্য একটি পরীক্ষা। একটি মেয়ে মারা গেছে। কিন্তু তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে যেন সত্যটিও মারা না যায়। অপরাধীর পরিচয় নয়, প্রমাণ কথা বলুক। প্রতিশোধ নয়, বিচার কথা বলুক। কারণ যে দেশে একজন নারী সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার পথেও নিরাপত্তাহীন, সেখানে উন্নয়নের উঁচু ভবনগুলো যতই উঁচু হোক, নিরাপত্তার ভিত ততটাই নিচু থেকে যায়।
উৎস: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, যুগান্তরের প্রতিবেদন · ইউএনবির প্রতিবেদন
https://slotbet.online/