প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ৪:১৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ৪:১৫ এ.এম
ইপিজেডে ঘর ভেঙেও থামেনি জুয়ার আসর, ফের গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

মোঃ শহীদুল ইসলাম
চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড় এলাকায় আগের জুয়ার ঘর ভেঙে দেওয়ার পরও নতুন করে গড়ে ওঠা জুয়ার আস্তানা ফের উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জুয়া ও মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী ঘরটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়। এ সময় ইপিজেড থানা পুলিশের সদস্যরা সিটি করপোরেশনের টিমকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন।
পুলিশের প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আকমল আলী পকেট গেইট খালপাড় এলাকায় গত প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরিত্যক্ত ডোবার ওপর বাঁশের খুঁটির ওপর টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করে টাকা দিয়ে জুয়া খেলা ও মাদকের আসর বসানোর অভিযোগ রয়েছে ওসমান গনির (৩২) বিরুদ্ধে। প্রেস রিলিজে তাকে পেশাদার জুয়াড়ি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বাবার নাম জানা যায়নি। স্থায়ী ঠিকানা—পশ্চিম পট্টি, ফতেপুর, ফতেপুর ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-৪৩৩১, থানা হাটহাজারী, জেলা চট্টগ্রাম। বর্তমানে আকমল আলী পকেট গেইট, খালপাড়, থানা ইপিজেড, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বসবাস করেন বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ৩ জুন বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি অভিযানিক দল ওই জুয়ার ঘরটি ভেঙে দেয়। একই ঘটনায় ওসমান গনির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর কিছুদিন জুয়া খেলা বন্ধ থাকলেও ফের নতুন করে আসর বসানোর অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ জানায়, গত কয়েকদিন আগে দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী খালপাড় সিডিএ বালুর মাঠের উত্তর পাশে গহীন আমবাগানের জঙ্গলের ভেতর ওসমান নতুন করে একটি অস্থায়ী খোলা টংঘর নির্মাণ করে সেখানে জুয়া খেলা ও মাদক সেবনের আসর বসাচ্ছেন—এমন গোপন সংবাদ পাওয়া যায়। ওই সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর এসআই (নিঃ) আবু বকরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে ছয়জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জুয়ার আসর থেকে ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় মামলা নম্বর-০১, তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে জুয়া প্রতিরোধ দমন আইন, ২০২৬-এর ১৫/১৮/২৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের পর জুয়াড়ি ওসমান গনি পুলিশের তৎপরতা ঠেকাতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। জুয়ার ঘরে যাওয়ার পথে দুই জায়গায় বাঁশ দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ এবং রাস্তায় কাঁটা ফেলে পুলিশের চলাচলে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। তবে এসব কৌশল সত্ত্বেও তার কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি আশপাশে বসবাসরত নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল। ইপিজেড থানা পুলিশ একাধিকবার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করলেও কিছুদিন বিরতির পর আবারও সেখানে জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আসর বসানো হতো।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জুয়ার ঘরটি স্থায়ীভাবে অপসারণের জন্য প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানানো হয়। বারবার অভিযান সত্ত্বেও কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় দুর্গম স্থানে স্থাপিত ঘরটি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের কাছে জানানো হলে তাঁর নির্দেশে সিটি করপোরেশনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ইপিজেড থানার এসআই (নিঃ) মোঃ মামুনুর রশিদ, এসআই (নিঃ) মোঃ কামরুজ্জামান এবং থানা এলাকায় মোবাইল-৫১ ডিউটিতে নিয়োজিত অফিসার ও ফোর্স সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টিমকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন। অভিযানে জুয়া ও মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী ঘরটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়।
ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আতিকুর রহমান, বিপিএম বলেন, “জুয়া, মাদকসহ কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ এলাকায় চলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
প্রশাসন ও পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জুয়া ও মাদক সেবনের কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী ঘরটি অপসারণের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান তারা।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩