
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মা, মেয়ে ও কিশোর নাতিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে; যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদের উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসন।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার আলমগীর হোসেন বলেন, “প্রত্যেকের শরীর ১৫ থেকে ২০ ভাগ পুড়ে গেছে। এর মধ্যে কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে ৭২ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।”
দগ্ধরা হলেন- হনুফা বেগম (৫৫), তার মেয়ে ইতি (২২) এবং নাতি ফাহিম (১৫)।
এদিন সকালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধলমৌ গ্রামের জেলে প্রয়াত শাহ আলমের ঘরের পাশে রাখা একটি ব্যাগে বিস্ফোরণ থেকে লাগা আগুনে তারা দগ্ধ হন বলে জানান বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন
পরে তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এদিন বিকালে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নেন বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, বিস্ফোরণের কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার ব্যয় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন বহন করবে।
এ সময় বিভাগীয় কমিশনার তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটিকে ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
দগ্ধ ইতি বলেন, “বোনের ছেলে ফাহিম পায়ে ব্যথা পেয়েছে। সকালে তাকে ব্যায়াম করানোর জন্য বের হই। তখন ঘরের পাশে রশির সঙ্গে তিন প্যাকেট চিপস বাঁধা ছিল। ভাবতেছি, সকালে কে এমনভাবে চিপস বেঁধে রেখে গেছে।
এ ছাড়া চিপসের সোজা নিচে একটি নতুন বাজারে ব্যাগ দেখতে পাই। যেটি চিপসের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা। বিষয়টি দেখতে যাওয়ার সময় ইটের সাথে আঘাত পেয়ে রশিতে হাত পড়ে। আর তখন কি জানি বিস্ফোরণ হয়ে আমিসহ বোনের ছেলে ও মায়ের শরীরে আগুন ধরে গিয়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে আমরা নদীতে লাফ দেই।”
ওসি আদিল হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা আলামত সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পেট্রোল জাতীয় কোনো বোমা রেখে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রহস্য বলতে পারব না।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. আলাউল হাসান বলেন, “কি কারণে ও কারা এখানে রেখেছে বিষয়টি এখনো ক্লিয়ার না। ঘটনাস্থল থেকে একটি বোতল ও কিছু তার পাওয়া গেছে। এটা কি ধরনের বোমা ছিলো এখনো বলতে পারছি না। ঢাকা থেকে বোমা বিশেষজ্ঞরা আসছেন। তারা বলতে পারবেন।”
আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশে এটা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণার কথা জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩