সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে ঘিরে পাথর কোয়ারি, ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের স্বার্থ এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জের পাথরনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবিকা যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন তাঁদের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ কোথায়—এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
পাথরের রাজনীতি, ক্ষমতার হিসাব আর সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস—এই সমীকরণের জবাব কে দেবে? পাথর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মানুষের সংকটকে উপেক্ষা করে কিংবা তাঁদের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না দিয়ে জনআস্থা ধরে রাখা সম্ভব নয়। একজন জনপ্রতিনিধির সাফল্য তাঁর পদমর্যাদায় নয়, বরং মানুষের জীবনে তিনি কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছেন, তার ওপর নির্ভর করে।
আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে প্রশ্ন—পাথর কোয়ারি নিয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত কোথায়? স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা কী? নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার এত ব্যবধান কেন? জনগণের জীবন-জীবিকা যখন সংকটে, তখন দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠবেই।
একই সঙ্গে তাঁর আয়-সম্পদ ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও জনপরিসরে প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার মানদণ্ড আরও কঠোর হওয়া উচিত। অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্পষ্ট বক্তব্য—দুটিই জরুরি।
রাজনীতি কোনো ব্যক্তির ক্ষমতা প্রদর্শনের মঞ্চ নয়; এটি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়িত্ব। জনগণের প্রশ্নকে অবজ্ঞা করা, সমালোচনাকে ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখা কিংবা জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে পাশ কাটানো—কোনোটিই দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় হতে পারে না।
সিলেট-৪-এর মানুষ কথার ফুলঝুরি নয়, চায় কাজের হিসাব। চায় পাথরসংশ্লিষ্ট মানুষের জীবিকার নিশ্চয়তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা এবং প্রতিটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের জবাব। পদ সাময়িক, ক্ষমতা পরিবর্তনশীল—কিন্তু জনগণের কাছে জবাবদিহির দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।
দৈনিক প্রতিবাদ প্রকাশক ও সম্পাদক
সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩