
বরিশাল মহানগরীতে ইজিবাইক, অটোরিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য থ্রি-হুইলার যানবাহনের একতরফা ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রোববার (২৮ জুন) বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিল একপর্যায়ে সড়ক অবরোধে রূপ নেয়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদস্বরূপ দুই শতাধিক ইজিবাইক, সিএনজি ও থ্রি-হুইলার আটকে রাখেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা নির্ধারিত নীতিমালা ছাড়াই পরিবহন চালকরা ইচ্ছেমতো দেড় থেকে দুই গুণ পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। গত এক মাসে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নগর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা রাজপথে নেমেছেন।
দিনভর চলা এ কর্মসূচিতে বিএম কলেজের সামনের সড়কে যান চলাচল আংশিক ব্যাহত হয়। বিকেলে কলেজ প্রশাসনের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
তবে শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সোমবার দিনের প্রথমভাগের মধ্যে জেলা প্রশাসন ও নগর প্রশাসন বৈঠক করে নগরীর সব ধরনের থ্রি-হুইলার ও সিএনজির নির্ধারিত ভাড়া ঘোষণা না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ আল মামুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন—
"বরিশালে অটোরিকশার অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি আমি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।"
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
এখন নগরবাসীর দৃষ্টি প্রশাসনের দিকে। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ভাড়া নির্ধারণ ও কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে নৈরাজ্য বন্ধ না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩