আনিছুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক,
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৈলছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চেচুরিয়া এলাকায় সরকারি পানি চলাচলের পাইপলাইন দখল, কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং পরিবেশ ও শব্দ দূষণের মাধ্যমে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে ‘এস.কে.বি ক্লাব’। প্রায় ৬০ বছর ধরে ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশনের সরকারি পাইপলাইনের পথটি বন্ধ করে সেখানে ক্লাবের নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি প্রবাহিত করায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী আরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে গত
১৫ জুন ২০২৬ ইং তারিখে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এবং ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ ও সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালী প্রধান সড়কের নিচ দিয়ে প্রায় ৬০ বছর ধরে পাইপলাইনের মাধ্যমে সড়কের পশ্চিম ও পূর্ব পাশের পানি মৌসুমভেদে প্রবাহিত হতো। কিন্তু বিগত কয়েক বছর আগে এস.কে.বি ক্লাবের মালিক ছালেক সাহেব জায়গা ক্রয় করে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি সরকারি পাইপলাইনটি একচ্ছত্রভাবে দখল করে স্থানীয় জনসাধারণের পানি চলাচলের পথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে কৃত্রিম জলবদ্ধতা সৃষ্টি করে অভিযোগকারীদের ভোগান্তিতে পেলেন।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, এস.কে.বি ক্লাবের ওয়াশরুম ও বাথরুমের বর্জ্যমিশ্রিত নোংরা পানি প্রথমে প্রধান সড়কের ধারের একটি ট্যাংকিতে জমা করে। সেখান থেকে তা পাইপলাইনের মাধ্যমে সড়কের পূর্ব পাশে উন্মুক্তভাবে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট তীব্র দুর্গন্ধে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ। শুধু তাই নয়, বাঁশখালী প্রধান সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, পুলিশ প্রশাসন ও বিচারকসহ সর্বস্তরের মানুষ এই পরিবেশ দূষণের কবলে পড়ছে।
এ বিষয়ে ক্লাবের স্বত্বাধিকারী ছালেক সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আগে ওই পাইপলাইন দিয়ে আরিফদের বসতভিটার পানি প্রবাহিত হতো। তবে অভিযোগ করেন যে, সেই পানি দূষিত বলেই তিনি পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছেন। স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে পাইপলাইনটি খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, চার দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি এবং পরে ফোন ও রিসিভ করা বন্ধ করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ক্লাবের দায়িত্বরত মোহাম্মদ রফিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শুরুতে আরিফদের পানি চলাচলে কোনো বাধা নেই বলে দাবি করেন। তবে পানি তাদের ট্যাংকিতে না ফেলে সরাসরি পাইপলাইনে ফেলার শর্ত দিলেও, পরবর্তীতে তিনি তার অবস্থান থেকে সরে গিয়ে উল্টো সুর ধরেন। ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম ও তার পরিবারের অভিযোগ, ক্লাবের মালিকপক্ষের ইন্ধনে রফিকসহ অন্যান্য কর্মচারীরা তাদের পানি নিষ্কাশনে বাধা প্রদান ও হুমকি প্রদর্শন করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি সম্পদ দখল করে নিজের স্বার্থে ব্যবহার এবং পরিবেশ ও শব্দ দূষণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ দখলমুক্ত করে পানি চলাচলের পথ সচল করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩