
মোকামতলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুইটি ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন
আতিক রহমান, মোকামতলা (বগুড়া):
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোকামতলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুইটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত দুইটি লেনোভো ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ রহস্যজনকভাবে চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চুরি হওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে ২০২৬ থেকে ৩১ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে কোনো এক সময়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অফিস কক্ষ থেকে ল্যাপটপ দুইটি চুরি হয়। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা অফিসে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, শিক্ষার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ, অনলাইন যোগাযোগ এবং সরকারি বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজে ল্যাপটপগুলো ব্যবহার করতেন। নির্ধারিত সময়ে অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ল্যাপটপগুলো খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ, অফিস রুম এবং সম্ভাব্য স্থানগুলোতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করা হলেও ল্যাপটপ দুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয় যে, ল্যাপটপগুলো চুরি হয়ে গেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, চুরি হওয়া ল্যাপটপ দুটি বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এসব ডিভাইসে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক তথ্য, শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কিত নথিপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ ডাটা সংরক্ষিত ছিল। ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও এই চুরির ঘটনা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে চুরি হওয়া দুইটি লেনোভো ল্যাপটপের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চুরির ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। বিশেষ করে রাতের বেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রহরী ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার দাবি উঠেছে।
অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ চুরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বিদ্যালয়ের সম্পদ মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই এ ধরনের ঘটনার দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদের দিকে কুদৃষ্টি দেওয়ার সাহস না পায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চুরি হওয়া ল্যাপটপগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
শিবগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পুলিশ ঘটনাটির বিভিন্ন দিক তদন্ত করছে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে চুরি হওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চুরির এ ঘটনাটি মোকামতলা এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সকলের দৃষ্টি তদন্তের অগ্রগতি ও চুরি হওয়া ল্যাপটপ উদ্ধারের দিকে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও আশাবাদী যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হবে এবং হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সরঞ্জামগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩