নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম কালুরঘাট ফেরিঘাটের নতুন ইজারা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণ, ব্যবসায়ী মহল ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ।
জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কালুরঘাট ফেরিঘাট ইজারা সংক্রান্ত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬-২০২৭, ২০২৭-২০২৮ এবং ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরের জন্য ফেরিঘাট ইজারা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরবর্তীতে উক্ত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে Writ Petition No. 5977 of 2026 দায়ের করা হয়। রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ১১ মে বিচারপতি Bishmadev Chakrabortty এবং বিচারপতি Abu Taher Md. Rahmatullah’র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ টেন্ডার কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ (Stay Order) প্রদান করেন।
একইসঙ্গে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করে জানতে চান, কেন ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
আদালতের আদেশে বলা হয়, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত টেন্ডার কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি বিবাদীদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রুলের কপি গ্রহণ এবং চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে ডাকযোগে ও সরাসরি দাখিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে এসএমএসের মাধ্যমেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মধ্যেও জনস্বার্থে কালুরঘাট ফেরি সচল রাখা হয়েছিল। কারণ দক্ষিণ চট্টগ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই ফেরিঘাট ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও জরুরি যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কালুরঘাট ফেরিঘাট শুধু পারাপারের মাধ্যম নয়; এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। ফলে ফেরিঘাটের ইজারা কার্যক্রম ঘিরে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় নতুন করে কোনো ধরনের ইজারা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে আরও জটিল আইনি পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
তবে এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩