শরীফ আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার:
নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী থেকে ভোঁপাড়া গ্রামের সড়কের পশ্চিম পাশে গড়ে ওঠা “আর.এস.এস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ” নামক একটি ব্যাটারি রিসাইক্লিং কারখানাকে ঘিরে এলাকায় চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটি আত্রাই উপজেলা বিএনপি নেতা ও মনিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সম্রাট হোসেন এবং আবাদপুকুর বাজারের ‘ভাই ভাই সাইকেল স্টোর’-এর মালিক মো. শাহিনুল ইসলাম (শয়নুল)-এর মালিকানাধীন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার পরই শুরু হয় কারখানার কার্যক্রম। ব্যবহৃত ব্যাটারির প্লেট পুড়িয়ে সিসা উত্তোলনের সময় নির্গত হয় ঘন কালো বিষাক্ত ধোঁয়া, যা মুহূর্তেই আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবেশ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে দিন দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
কারখানার কারণে—
আশপাশের কৃষিজমিতে ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে,অনেক ক্ষেত্রে ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, মাটির গুণাগুণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,বর্ষা মৌসুমে পানিতে বিষাক্ত বর্জ্য, হুমকিতে জলজ প্রাণী।
বর্ষা মৌসুমে কারখানার বর্জ্য বন্যার পানির সঙ্গে মিশে আশপাশের জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
প্রতিদিন ব্যাটারি বোঝাই ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: নীরব ঘাতক সিসা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সিসা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ভারী ধাতু। ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের সময় উৎপন্ন সিসার সূক্ষ্ম কণা বাতাসে মিশে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
এর ভয়াবহ প্রভাবগুলো হলো—
শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়া,স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া,কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি, রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ভ্রূণের ক্ষতি,দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি।
কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য মাটি ও পানিতে মিশে কৃষিক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে।
এর ফলে— মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে,ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে,খাদ্যশস্যে বিষাক্ত সিসা জমা হচ্ছে,গবাদিপশু ও পাখির স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে,এতে শুধু পরিবেশ নয়, মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।
প্রশ্ন একটাই: মানুষের জীবন, নাকি অবৈধ কারখানা?
স্থানীয়দের প্রশ্ন—জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনের চেয়ে কি একটি অবৈধ সিসা কারখানার প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
এলাকার সচেতন মহল অবিলম্বে কারখানাটি বন্ধ ও উচ্ছেদের জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার এবং উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি—“এই অবৈধ সিসা রিসাইক্লিং কারখানাটি দ্রুত বন্ধ না করলে ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় অনিবার্য।”
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩