ক্রাইম রিপোর্টার :
চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপির নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, কাজির দেউড়ি ও আসকার দীঘির পাড়ে আতঙ্ক [চট্টগ্রাম নগরীর বহুল আলোচিত ৩৩০ জন শীর্ষ দুষ্কৃতকারীর তালিকার ৫ নম্বরে থাকা মো: মোস্তফা প্রকাশ শফি মোস্তফা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত কাজির দেউড়ি, আসকার দীঘির পাড়সহ ২১ নং জামাল খান ওয়ার্ড এলাকায় তার অবাধ বিচরণ ও নানা অপকর্মে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শফি মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে তুলে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, চাঁদা তুলেন মো: হোসেন, ফারুক, জালাল, শরীফ গ্যাং মাধ্যমে।
এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্যের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এমপির নাম ব্যবহার করে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করেন শফি মোস্তফা। এতে সাধারণ মানুষ ভয় পেয়ে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পায় না। স্থানীয়দের ভাষায়, রাজনৈতিক পরিচয়ের ছত্রছায়া দেখিয়ে এলাকায় দাপট চালানোই তার মূল শক্তি।
একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চাঁদা না দিলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে যায়। প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। সবাই জানে কারা এসব করছে, কিন্তু রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আরেকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শীর্ষ দুষ্কৃতকারীর তালিকায় নাম থাকার পরও যদি সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কার কাছে নিরাপত্তা চাইবে? প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একজন তালিকাভুক্ত আসামির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে এক ধরনের সাহস তৈরি হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হলেও প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান অনেকটাই নীরব। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, √আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি পরিচয়ভেদে বদলে যায়? কেউ কেউ মন্তব্য করছেন, যাকে প্রতিদিন এলাকায় দেখা যায়, তাকে ধরতে না পারা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলায় তার অনুসারীদের আনাগোনা বেড়ে যায় এবং এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তরুণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তারা।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তালিকাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে এবং মো: মোস্তফা ওরফে শফি মোস্তফাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, √যদি প্রশাসনের সত্যিকার তৎপরতা থাকতো, তাহলে শীর্ষ তালিকার একজন আসামি দিনের পর দিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারতো? মানুষের হতাশা এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেকেই বলছেন, [অপরাধীকে খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়, কঠিন হলো তাকে ধরার ‘ইচ্ছা’ খুঁজে পাওয়া।
দৈনিক প্রতিবাদ প্রকাশক ও সম্পাদক
সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩